হোম » সারাদেশ » ডোমারে সেতু ভেঙ্গে জনদূর্ভোগে কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ

ডোমারে সেতু ভেঙ্গে জনদূর্ভোগে কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ

মো:রিমন চৌধুরী ডোমার,(নীলফামারী)প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডোমারে কলন্দর নদীর ওপর নির্মিত সেতুটি হঠাৎ করে দেবে ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে চলাচলের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ব্রিজের দুই পাড়ে বসবাসকারী কয়েকটি ইউনিয়নের লাখো মানুষ। প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই ভাঙ্গা সেতুর উপর দিয়ে ট্রাক্টর, এ্যাম্বুলেন্স, ট্রাক, অটোরিক্সা, মাইক্রো সহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করছে। তবে অনেককেই দেখা গেছে পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপদে গন্তব্যে পৌছাতে তারা ১৫ কিঃমিঃ পথ ঘুরে নিজ গন্তব্যে ফিরছেন।

এতে করে একদিকে যেমন অপচয় হচ্ছে অর্থ অপরদিকে অপচয় হচ্ছে সময়ের। তাই এলাকাবাসীর একটাই দাবি যতদ্রুত সম্ভব সেতুটি পুনঃনির্মাণসহ জনদূর্ভোগের হাত থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষার জোড় দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসী জানান, ৮০ দশকে ডোমার উপজেলার সাথে ঠাকুরগাঁও এবং দিনাজপুর জেলার সড়ক পথে সংযোগ স্থাপনে হংশরাজ এলাকায় নির্মিত কলন্দর নদীর উপর নির্মিত সেতুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। গত বর্ষা মৌসুমে কলন্দর নদীটি খননের ফলে এবারে বর্ষার পানির তোড়ে সেতুর পিলারের নিচে মাটি সরে গিয়ে আকষ্মিক ভাবে পিলারটি নিচে দেবে গিয়ে সেতুটির মাঝখানের অংশটি ভেঙ্গে যায়।

ভাঙ্গা সেতুটি কোন রকম জোড়াতালি দিয়ে এলাকার মানুষ যাতায়াতের সাময়িক ব্যবস্থা করলেও কি হবে প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে ছোট-বড় নানা ধরনের  দুর্ঘটনা। পাশাপাশি এই চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে উপজেলার হরিণচড়া, সোনারায় ইউনিয়ন সহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের লাখো মানুষ। হরিণচড়া ইউনিয়নের হংশরাজ গ্রামের মফিজার রহমান বলেন, গত ছয় মাস আগে বর্ষার পানির তোড়ে সেতুটি দেবে গিয়ে মাঝখানে ভেঙ্গে যায়। তখন থেকে এখন পর্যন্ত সেতুটি মেরামত বা পূর্নঃনির্মানের কোন উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষের।

তাই আমরা প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মালামালসহ যানবাহনগুলো ভাঙ্গা সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করছে। যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।  এলাকার আরেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অনিল চন্দ্র রায়ের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ায় হাট-বাজারে মালামাল আনতে অনেক দূর পথ ঘুরে আসতে হয়। এছাড়াও মালামাল আনতে অতিরিক্ত টাকা ও ব্যয় করতে হচ্ছে। আমার এই ক্ষুদ্র ব্যবসায় এতো খরচ পোষাতে না পেরে এই ভাঙ্গা পথেই রিক্সা ভ্যানে ঝুঁকি নিয়ে মালামাল পারাপার করছি। গত মাসে ভাঙ্গা সেতুর উপর দিয়ে মালামাল পার করতে গিয়ে মালামালসহ ভ্যানটি উল্টে গিয়ে আমার ব্যবসার অনেক ক্ষতি হয়েছে কিন্তু কি আর করার কে শোনে কার কথা।

এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোস্তাক আহমেদ জানান, কলন্দর নদীর উপর নির্মিত সেতু ভেঙ্গে পড়ার বিষয়টি আমি আমার উর্দ্ধসঢ়;ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট অবগত করেছি। এখানে আমার কোন কিছু করার নাই। বরাদ্দ এলে খুব দ্রুত সেতুটির নির্মানের কাজ শুরু হবে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ বলেন, সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ায় দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ। তাই দ্রুত সময়ের মধ্য কলন্দর নদীর উপর ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি নির্মাণ করতে জেলা পরিষদ ও প্রশাসনকে জানান হয়েছে।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!