
লাতিফ রানা : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় প্রায় ৪০ যাত্রী নিয়ে ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনার দীর্ঘ ৪ দিন অপেক্ষার পর ৫ দিনের মাথায় ভেসে উঠলো মা-মেয়েসহ ৬ জনের মরদেহ। এই দীর্ঘ সময় স্বজনদের খুঁজে না পাওয়ায় বুড়িগঙ্গা তিরে স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে আশেপাশের পরিবেশ। গতকাল রোববার সকালের দিকে ফতুল্লার বক্তাবলী ফেরিঘাট এলাকার নদীর কিনার থেকে প্রথমে মা-মেয়েসহ ৪ জনের মরদেহ ভেসে উঠে। পরে বিকেলের দিকে ভেসে উঠে আরো ২ জনের মরদেহ। মরদেহগুলো পানিতে ভাসতে দেখে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দলকে খবর দিলে তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
এদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় শনাক্ত করেছে তাদের পরিবার। তারা হলেন, জেসমিন আক্তার (৩২) ও তার মেয়ে তাসফিয়া (২) এবং কলেজ ছাত্র সাব্বির (১৮)। বাকি তিন জনের পরিচয় গতকাল বিকেল পর্যন্ত শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত ফেরদৌস মিডিয়াকে জানান, নিখোঁজের ৪ দিন পর একই পরিবারের নিখোঁজ মা-মেয়েরসহ ৬ জনের মরদেহ ভেসে উঠলে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের নারায়ণগঞ্জের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন জানান, ট্রলার ডুবিতে নিখোঁজ ৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় নিখোঁজদের মধ্যে ছিলেন, কিশোরগঞ্জের ইদ্রিস আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ (২২), রেকমত আলীর ছেলে মোতালেব (৪২), চর বক্তাবলী এলাকার রাজুর ছেলে সাব্বির (১৮), মধ্য চরের সোহেলের স্ত্রী জেসমিন আক্তার (৩২), তাদের ছেলে তামীম খান (৮), মেয়ে তাফসিয়া (২), তাসমিম ওরফে তাসলিমা (১৫) ও আওলাদ (২৮)।
উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি সকালে বরিশালের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা মেসার্স ফারহান নেভিগেশনের এমভি ফারহান-৬ লঞ্চের ধাক্কায় এই ট্রলার ডুবির ঘটনাটি ঘটে। সে সময় ট্রলারে কমপক্ষে ৪০ জন যাত্রী ছিল বলে দুর্ঘটনার কবল থেকে বেঁচে আসা যাত্রীসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। ঘটনায় প্রায় ৯ জন নিখোঁজ হয়েছে বলে জানা যায়। ঘটনার পর সেইদিন রাতেই নৌ-পুলিশ লঞ্চটি জব্দ করে এবং লঞ্চের মাস্টার কামরুল হাসান (৪০), ইনচার্জ ড্রাইভার মো. জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া (৪০) ও সুকানি মো. জসিম মোল্লাকে (৩০) আটক করে। পরেরদিন ট্রলারডুবির ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি দায়ের করেন বিআইডবিøউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের নৌ-নিরাপত্তা বিভাগের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) বাবু লাল বৈদ্য। সে ঘটনায় আসামী করা হয়েছে মেসার্স ফারহান নেভিগেশনের এমভি ফারহান-৬ লঞ্চের মাস্টার, ইনচার্জ ও সুকানিকে।
মামলায় উল্লেখ্য করা হয়, ৫ জানুয়ারী বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে ঢাকাগামী এম.ভি ফারহান-৬ নামে লঞ্চ বেপরোয়া গতিতে এসে ৪০/৫০ জন যাত্রীসহ খেয়া পারাপারের একটি ট্রলারকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ট্রলারটি ডুবে গেলে ট্রলারের ৯জন যাত্রী নিখোঁজ হয়। লঞ্চের মাস্টার কামরুল হাসান, ইনচার্জ ড্রাইভার জসিম উদ্দিন ভুইয়া ও সুকানি মো. জসিম মোল্লার (৩০) দায়িত্ব অবহেলার কারনেই এই দূঘর্টনাটি ঘটেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।