হোম » সারাদেশ » যশোরের বাঘারপাড়ায় ৯টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ  ২৮ নভেম্বর, নৌকার প্রার্থীদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ বিদ্রোহীরা

যশোরের বাঘারপাড়ায় ৯টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ  ২৮ নভেম্বর, নৌকার প্রার্থীদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ বিদ্রোহীরা

এস আর নিরব যশোরঃ যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ আগামী ২৮ নভেম্বর রবিবার। অবাধ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বাঘারপাড়া নির্বাচন কমিশন। বিএনপি-জামায়াত দলীয়ভাবে নির্বাচন না করায় অধিকাংশ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে মাঠে রয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থীরা। ভোটের সমীকরণে নৌকার প্রার্থীদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিদ্রোহীরা। ফলে ভোটের মাঠে আধিপত্য বিস্তারে মরিয়া হওয়ায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতা হয়েছে।
উল্লেখ্য জহরপুর ইউনিয়নে গত  ১ নভেম্বর স্বতন্ত্র  চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী  বদর মোল্লা তার নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে একটি মাইক্রোবাস যোগে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাচনী কর্যালয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে হুলিহট্টমোড়ে সন্ত্রাসীরা তার গাড়িতে ব্যারিকেড দিয়ে ধারালো অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা তাকে টেনে হিচড়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে বেধড়ক মারপিট করে মনোনয়নপত্র ছিনিয়ে নেয়। একইসাথে তার কর্মীদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে  এবং একটি মাইক্রোবাস ও তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এঘটনায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বদরমোল্লাসহ ৫ জন আহত হয় ।
গত উপজেলা উপনির্বাচনে ০২-০৬-২০২০ তারিখে খবিউর রহমান ডিগ্রি কলেজের নাইটগার্ড রিপন হোসনকে হাতুড়ি পিটিয়ে জখম করে এবং তার পিতা আবু শেখকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতের কব্জি কাটে এবং তাকে উলঙ্গ করে জহুরপুর বাজারে ঘুরানো হয় একইভাবে গত উপজেলা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে নৌকা প্রতীকের একনিষ্ঠ কর্মী অসহায় গরীব খালিদুর রহমান টিটুকে পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে ভাড়াটিয়া দুর্বৃত্ত দিয়ে খুন করা হয়। পূর্বের এই ধরনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো জহরপুর ইউনিয়নে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই ইউনিয়নের সাধারণ ভোটাররা তাদের ভোট অধিকার নিয়ে তারা সংকিত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে,বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাচন অফিসার জনাব ওয়াহিদা আফরোজ বলেন, জহুরপুর ইউনিয়নের নির্বাচনী সহিংসতার ব্যাপারে প্রশাসনিক ব্যবস্থা আরো কঠোর করা হয়েছে, ইতিমধ্যে সেখানে মিটিং করে যাঁরা এধরণের সহিংসতার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে তাদের নিকট থেকে অঙ্গীকারনামা নেওয়াসহ তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে।
আগামী ২৮ নভেম্বর রবিবার উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ৮১ টি কেন্দ্রের ৪৮৫ টি কক্ষের মধ্যে ৭২ টি কেন্দ্রে ব্যালটে এবং ৯ টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ইভিএমে বাঘারপাড়ায় ৮৫ হাজার ৪২৭ জন পুরুষ ও ৮৩ হাজার ৫১৫ জন মহিলাসহ মোট ১ লক্ষ ৬৮ হাজার  ৯৪২ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। বাঘারপাড়ার মোট ৯ টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ, বিদ্রোহী, বিএনপির সমর্থিত স্বতন্ত্র, ইসলামী আন্দোলন, জাকের পার্টি ও বাংলাদেশ কংগ্রেস এবং তিন নির্দলীয় প্রার্থীসহ মোট ৫০ জন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও সাধারণ সদস্য পদপ্রার্থী ৩১৯ জন এবং সংরক্ষিত আসনে ১০২ জন মেম্বার পদপ্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা  করবেন।
নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন ৮১ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৪৮৫ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ৯৭০ জন পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দিয়েছেন। এরমধ্যে রায়পুর ইউনিয়নের ২০৪ জনকে হাতে-কলমে ইভিএম ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে। শুক্রবার ২৬ নভেম্বর সব কেন্দ্রে ইভিএমের মাধ্যমে মক ভোটিং অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১০টা হতে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই মক ভোটিংয়ে সাধারণ ভোটাররা অংশ নিতে পারবেন। এছাড়া ইভিএম পদ্ধতি সম্পর্কে ভোটারদেরকে সচেতন করতে ২৫ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে মাইকিং করা হবে।
তিনি আরো বলেন, ২৮ নভেম্বর নির্বাচন সুন্দর, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রশাসন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!