প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ১২:৪০ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ১১, ২০২১, ৪:২০ অপরাহ্ণ
দাগনভূঞায় সাড়ে তিনশতক জমির মালিকানা দাবিতে দেড়’শর অধিক মামলা আতংঙ্কে এলাকাবাসি

দাগনভূঞা ফেনী প্রতিনিধি: ফেনীর দাগনভূঞা ৭ নং মাতুভূঞা ইউনিয়ন ৪ নং ওয়ার্ড স্থায়ী বাসিন্দা সালাম নগর সাবেক লক্ষনপুর জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে নজর্দি ব্যাপারি বাড়ির জয়নাল আবেদীন ও পেয়ার আহম্মদ সাথে সাড়ে তিন শতাংশ জমি পাওনা দাবি করে এ পর্যন্ত প্রায় একশত পয়ষট্রি মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। অধ্যবধি কোন সুরাহা হয়নি জমির বিরোধ।
মামলার বিবরণ ও জনপ্রতিনিধির তথ্য মতে, জয়নাল আবেদীন এর পিতা মৃত আবদুস সালাম থেকে শুরু করে পেয়ার আহম্মদ এর পিতা মৃত আরশাদ আলীর সংঙ্গে ৩৮৩ শতাংশ জমি নিয়ে ১শর অধিক পরিবারের মাঝে দু পক্ষের কোন্দল শুরু হয়। দীর্ঘ ৪৬ বছর মামলা মোকদ্দমা শেষে ৩৮৩ শতাংশের মাঝে পেয়ার আহম্মেদ গং পান ১৮৩ শতাংশ অপর দিকে জয়নাল আবেদিন গং পান ১৪ শতাংশ বাকি জমিতে অন্যান্যরা মালিক রয়েছেন।
পেয়ার আহম্মদ ও জয়নাল আবেদীন পাশাপাশি বাসিন্দা হওয়াতে সাড়ে তিন শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ১৬৫ টি মামলা তার মধ্যে ৮টি চলমান বাকিগুলো নিস্পত্তি হয়েছে। দুটি মামলা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে মারাত্নক কোন্দল ও হানাহানির আশংকা প্রকাশ করেন। একপক্ষ অপর পক্ষকে মামলার হুমকি প্রদর্শণে অপেন সিক্রেট পরিণত হয়েছে। অধিকাংশ মামলাই পেয়ার আহম্মদ এর পক্ষে রায় হয়।
এতগুলো মামলা লডাই করে পেয়ার আহম্মদ (প্রবাসী ফেরত) জয়নাল আবেদীন এর বিপক্ষে করেন ২ টি মামলা তাও দুটি মামলাই তিনি জিতেন। জয়নাল আবেদীন গং মামলায় হেরে গেলে পুনরায় করেন মামলা। তাদের পুরো বংশধর বাদি রয়েছেন পর্যায়ক্রমে। গত ২০১৭ সালে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের বিজ্ঞ আদালত ফেনী থেকে পিটিশন নং ৪৫৬/১৬ ধারা ফৌজদারি কার্যবিধি ১৪৫ ধারায় আদেশ দেন যে, জয়নাল আবেদিন মামলা করা নেশায় পরিণত হয়েছে। সে সময়েই ৬ টি মামলার তার কোন দখলে প্রতিবেদন যায়নি।
সার্বিক পর্যায়লোচনা প্রার্থীর মামলার কোন ভিত্তি নেই বলে আদেশ দেন মাননীয় আদালত। অপরদিকে জয়নাল আবেদিন বিভিন্ন অজুহাতে পেয়ার আহম্মদকে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সুত্র ধরে মিথ্যার আশ্রয়ে কোর্টের মাধ্যমে মামলা অব্যাহত রেখেছেন। তাদের এ ক্রোন্দলে অত্র এলাকায় টক অব দ্যা নিউজ মামলাবাজ বাড়ি হিসেবে পরিচিত। আশে পাশের বাসিন্দারা নিয়মিত আতংকে থাকেন কখন কাকে কার নামে মামলায় আসামী করেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ মান্যগণ্য ব্যক্তিগন এ বিষয়ে দীর্ঘ শালিশ বৈঠক হলেও সমাধান মানতে রাজি নয় জয়নাল আবেদীন গং। তারা চান মামলা তাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগন এ বিষয়ে তীক্ততা প্রকাশ করেন তাদের কার্যকলাপে। শুধু তাই নয় যে আমিন জমি মেপে দিতে যান জয়নাল আবেদীন গংদের বিপক্ষে গেলে পরবর্তীতে আমিনের বিরুদ্ধে ও করেছেন মামলা যা চলমান প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
এ বিষয়ে বিবাদী পেয়ার আহম্মেদ জানান, কোন কারণ ছাড়াই জয়নাল আবেদিন গং আমার বিরুদ্ধে ও পিতৃপুরুষের সময় পর্যন্ত ১৬৫ টি মামলনা করেছে। যার কারণে আমাদের প্রায় ৮০ লাখ টাকা ক্ষতি সাধিত হয় এ পর্যন্ত। আমার ঘরের সামনে ও পাশে জোর করে বেড়া দিয়ে ও থাকার ঘর ভাংচুর করে দখল করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তাদের হুমকিতে ও ভয়ভীতি প্রদর্শণে নিরাপত্তা হীনতায় ভূগছেন পরিবার নিয়ে। তাছাড়া আমার দুটি ছেলে পরিবার নিয়ে প্রবাসে থাকে দীর্ঘবছর। বাড়িতে আসেনা মামলার ভয়ে।
মামলার বাদি জয়নাল আবেদীন জানান, তিনি সাড়ে তিনশতক জমি তাদের কাছে পাবেন তাই পর্যায়ক্রমে মামলা করে যাচ্ছেন। জমি না পাওয়া পর্যন্ত তিনি লডাই করবেন। স্থানীয় বাসিন্দা মো. কামাল বলেন, জয়নাল আবেদীন গং তারা মামলা করে মজা পায়। এজন্য সমাজে মামলাবাজ বাড়ি হিসেবে অনেকেই ভালো চোখে দেখেননা। এ বাড়িতে ১শর অধিক পরিবার রয়েছে। ভবিষ্যৎতে এভাবে চলতে থাকলে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তাই জনপ্রতিনিধিসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন যেন বিষয়টা সমাধান হয়।
স্থানীয় ৪ নং ওয়ার্ড মেম্বার আবদুর রাজ্জাক হারুন মেম্বার বলেন, তার জানা মতে ১৫ বছর ধরে জয়নাল আবেদিন গং মামলা করে যাচ্ছেন। কোনটাই তাদের পক্ষে রায় পাননি। আমরা অনেকবার বসে মামলা না করে মিমাংশা করার অনুরোধ জানিয়েছি কিন্ত তারা তা মানেন না। এটা তাদের নেশায় পরিণত হয়েছে।
৭ নং ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, জয়নাল আবেদীন আমার কাছে অনেকবার লিখিত অভিযোগ করেন কিন্ত রায় মানেন না। এছাড়া ৮ নং ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ মিলন ভাই একবার বৈঠক করে রায় বিপক্ষে যাওয়াতে তারা উনার কথা শুনেননি। বর্তমানে তাদের এ মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে আমি তাদেরকে নিষেধ করেছি যেন ভবিষ্যতে এ বিষয়ে না আসেন যেহেতু তারা আমাদের কথা বা শালিশ বৈঠকের রায় অমান্য করেন।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.