হোম » সারাদেশ » সিলেটে ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে কারাদন্ড

সিলেটে ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে কারাদন্ড

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট মহানগরে ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক/টমটমের চলাচল বন্ধে সিটি কর্পোরেশন ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চলছে। অভিযানের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে সিলেট নগরীর আম্বরখানায় ব্যাটারিচালিত রিকশা ও টমটম চলাচল বন্ধে অভিযান পরিচালনা করছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এসময় সিলেট জেলা ছাত্রলীগ কর্মী মাজেদ আহমদ (২৭) একটি মোটরসাইকেল চালিয়ে এসে আম্বরখানা পয়েন্টে সড়কের উপর মোটরসাইকেলটি রং পার্কিং করে রাখেন। বিষয়টি নজরে পড়ে সিসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান খান এর। তিনি মাজেদের কাছে মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ অন্যান্য কাগজপত্র দেখতে চান এবং গাড়িটি রং পার্কিং করা হয়েছে বলে জানিয়ে জারিমানা করতে যান। এসময় মাজেদ গাড়ির কোনো কাগজপত্র না দেখিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ শুরু করেন।

উত্তেজিত হয়ে মাজেদ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বলেন, ‘আপনি আমার মোটরসাইকেল আটকেছেন কেন? প্রশাসনে আমার অনেক লোক রয়েছে। আমার হাত অনেক উপরে। আমার গাড়ির কোনো কাগজপত্র নেই। দেখবো আমার গাড়ি আপনি কীভাবে আটকে রাখেন।’

পরে তারেক আহমদ (৩০) নামের আরেক ছাত্রলীগ কর্মীকে মাজেদ ফোন দিয়ে নিয়ে আসলে তারা দুজনই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মতিউর রহমানের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত পুলিশ কল করে নিয়ে এসে তাদেরকে আটক করার নির্দেশ দেন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মতিউর রহমান খান। পরে তাদের দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৮৬ ধারায় ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন তিনি। বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত দুই ছাত্রলীগ কর্মী হচ্ছেন- নগরীর মিরাবাজার এলাকার আগপাড়া মৌসুমী-৮২ এর হোসেন চৌধুরীর ছেলে মাজেদ আহমদ (২৭) ও মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার চন্ডিনগর গ্রামের গৌছ উদ্দিনের ছেলে তারেক আহমদ (৩০)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান খান।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!