হোম » সারাদেশ » রংপুরের হারাগাছে আটকের পর পুলিশের নির্যাতনে মৃত্যুর ঘটনায় তিন মামলা, ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

রংপুরের হারাগাছে আটকের পর পুলিশের নির্যাতনে মৃত্যুর ঘটনায় তিন মামলা, ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরের হারাগাছে আটকের পর পুলিশের নির্যাতনে তাজুল ইসলাম (৫৫) নামে একজনের মৃত্যুর অভিযোগে থানা ঘেরাও করে বিক্ষুব্ধ জনতার বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করায় সেখানকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এঘটনায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মেহেদুল করিমকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সদস্যরা হলেন উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) আবু বকর সিদ্দীক, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) কাজী মুত্তাকী ইবনু মিনান ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (পশুরাম জোন) আরিফুল ইসলাম।

বুধবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটনের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন। এর আগে মঙ্গলবার রংপুর মেট্রোপলিটনের হারাগাছ থানায় তিনটি মামলা করা হয়। নিহতের ছোট ভাই মোর্তুজা রহমান বাদী হয়ে অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলাটি করেন। একটি মামলায় থানা ভাঙচুর, সরকারি কাজে বাধাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ আনা হয়। তৃতীয়টি মাদক উদ্ধারের মামলা করা হয়। দুটি মামলায় পুলিশের পক্ষে এসআই আব্দুল খালেক ও রিয়াজুল ইসলামকে বাদী হয়েছেন। ওই দুটি মামলায় নিহত তাজুল ইসলামসহ তিন শতাধিক ব্যক্তিকে আসামী করা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীদের নিক্ষেপ করা ইটপাটকেল থানা ভবনের একপাশে জড়ো করে রাখা হয়েছে। দ্বিতল ভবনের জানালার কাঁচ ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। থানার শিশু ও সেবাকেন্দ্রের কক্ষটি বিধ্বস্ত অবস্থায় আছে। ভবনের সামনে রাখা পুলিশ ভ্যান ও মোটরসাইকেলসহ গাড়ি রাখার গ্যারেজ ভাঙচুর করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে থানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনার পর তাদের মধ্যে কাউকে আটক করা হয়নি।

সকাল থেকেই স্থানীয় দোকানিরা দোকান পাট খুলে ব্যবসা করছেন। ক্রেতাসহ এলাকার লোকজন নির্বিঘ্নে চলাচল করছে। তবে মামলা হওয়া তারা আতংকে আছেন। অনেকেই গ্রেফতার এড়াতে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। হারাগাছ মেট্রোপলিটন থানার ওসি শওকত আলী সরকার জানান, গত সোমবার সন্ধ্যায় নতুন বাজার বছিবানিয়ার তেপতি থেকে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় আটক করে তাজুল ইসলামকে হাতকড়া পরানো হয়। এতে ভয়ে সে মলত্যাগ করে ফেলে। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশ হাতকড়া খুলে দেয়। এরপর পুলিশ তাজুলকে স্থানীয়দের জিম্মায় দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এর কিছুক্ষণ পর খবর আসে যে তাজুল ইসলাম মারা গেছেন। এঘটনায় ভুল তথ্য পেয়ে থানা ঘেরাও করে ভাঙচুর করেছে এলাকাবাসী।

প্রসঙ্গত: গত সোমবার সন্ধ্যায় রংপুর মেট্রোপলিটনের হারাগাছ থানার পুলিশ নতুন বাজার বছিবানিয়ার তেপতি নামক স্থানে অভিযান চালায়। এসময় হারাগাছের দালালহাট নয়াটারী এলাকার মৃত শওকত আলীর ছেলে তাজুল ইসলামকে মাদক সেবনের অভিযোগে আটক করে পুলিশ। এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুলিশের নির্যাতনে তাজুলের মৃত্যুর অভিযোগ তোলে স্থানীয়রা। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে হারাগাছ থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তাজুল হত্যার বিচার দাবি করে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ থানা ভবনে ভাঙচুর চালানো হয়। ভবনের সামনে রক্ষিত পুলিশ ভ্যান ও মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে থানা ভবনের ভিতরে অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!