প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ৮:০৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ২৬, ২০২১, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
ফেনীতে পলিথিন বর্জে হুমকির মুখে পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

দাগনভূঞা ফেনী প্রতিনিধি: পলিথিন পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর’ এ ব্যাপারে কম-বেশি সবারই জানা। তবে আমরা এ ব্যাপারে এখনও পুরোপুরি সচেতন নয়। দেশে প্রায় ২০ বছর আগে আইন করে নিষিদ্ধ হওয়ার পর এখনও পলিথিনের উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার বন্ধ হয়নি। অবাধে ব্যবহৃত হচ্ছে পলিথিন। পলিথিন ছাড়া পণ্য বহন করা মোটেই সম্ভব নয় বর্তমান পেক্ষাপটে। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পানি নিস্কাশন ও চাষাবাদ ব্যাবস্থাপনা।
গবেষকদের মতে পলিথিন অপচনশীল পদার্থ। তাই এর পরিত্যক্ত অংশ দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত ও অবিকৃত থেকে মাটি ও পানি দূষিত করে। মাটির উর্বরতা হ্রাস ও গুণাগুণ পরিবর্তন করে। কৃষি ক্ষেত্রে পলিথিন সূর্যের আলো ফসলের গোড়ায় পৌঁছাতে বাধা দেয়। ফলে মাটির ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া না মারা যাওয়ায় জমিতে উৎপাদন কমছে। পলিথিন পোড়ালে এর উপাদান পলিফিনাইল ক্লোরাইড পুড়ে কার্বন মনোক্সাইড উৎপন্ন হয়ে বাতাস দূষিত করে। পলিথিনের পরিত্যক্ত ব্যাগ শহরের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
পলিথিন ও বিভিন্ন প্লাস্টিক পণ্যের ব্যাপক ব্যবহার ও যত্রতত্র ফেলে দেওয়ায় সারাদেশে রাস্তাঘাট, খাল-বিল, নদী-নালা থেকে শুরু করে সমুদ্র পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে। মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এরপর ও থেমে নেই পলিথিনের রমরমা ব্যবসা এবং নৈমিত্তিক ব্যবহার। নিষিদ্ধ হওয়ার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনেই ফেনী জেলার সর্বত্রই পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার হচ্ছে। ক্ষুদ্র একটি জিনিস থেকে শুরু করে সবকিছুই এখন বিক্রেতারা পলিথিনের ব্যাগে করেই ক্রেতাদের হাতে তুলে দেন।
ফেনীতে দীর্ঘদিন স্বাস্থসেবা দিচ্ছেন ডা. গোলাম মাওলা। তিনি স্বদেশ প্রতিদিনকে জানান, শুধু পরিবেশ নয়, পলিথিন মানবদেহের জন্যও ক্ষতিকর। পলিথিন থেকে নির্গত হয় বিষফেনোল নামক বিষাক্ত পদার্থ যা মানবদেহের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর। পলিথিন ব্যাগ ব্যবহারে চর্মরোগ, ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারেন যে কেউ। তাই চিকিৎসা বিজ্ঞানে পলিথিন ব্যাগকে চর্মরোগের ব্যাগ বলে মনে করেন।
সিনিয়র সাংবাদিক আজাদ মালদার জানিয়েছেন, ফেনী শহরসহ জেলার সব পৌর শহরগুলোতে ড্রেনেজ সিস্টেমে সবসময় জ্যাম লাগিয়ে রাখা আবর্জনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যার কারণ পলিথিন। পলিথিনের কারণে অন্যসব আবর্জনাও জট পাকিয়ে থাকে। তাই ফেনী শহরের যখন অপচনশীল পলিথিন রাস্তায় ফেলছেন, তা বহু বছর কোনো না কোনো ড্রেনে বা খালে আটকে থাকে কিংবা ফেনী নদী, মুহুরী নদী ও কালিদাস পাহালিয়া নদীসহ আশপাশের কোনো খাল বা জলাশয়ে গিয়ে জমে থাকে। এ কারণেই পলিথিন বর্জ্যে শহরের চারপাশের খাল ও জলাশয়গুলো ভয়াবহ দূষণের শিকার।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর ফেনী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম নান্টু বলেন, আইন অনুযায়ী ক্ষতিকর পলিথিনের উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার বন্ধে তৎপরতা জোরদার করতে হবে। পলিথিন বিরোধী ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করতে হবে। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সম্প্রতি এসডো নামক এক বেসরকারি সংস্থার সমীক্ষা রিপোর্টে প্রকাশিত হয়েছে, করোনাভাইরাসের এক বছরে ৭৮ হাজার টনেরও বেশি পলিথিন বর্জ্য উৎপাদন হয়েছে। পলিথিন ব্যবহার বন্ধ না হলে আগামীতে পরিবেশ ও স্বাস্থ্য মারাত্নক হুমকির মুখে পড়বে বলে জানান অভিজ্ঞ মহল।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.