
টঙ্গী প্রতিনিধি: গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রতিদিনই লাগামহীনভাবে বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনী দ্রব্যমূল্য। তা একে একে ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় নিন্ম আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস হয়ে উঠছে আর মধ্যবিত্ত পরিবার বাজারে গিয়ে তাদের পছন্দের জিনিস কেনা তো দূরের কথা, প্রয়োজনীয় দ্রব্যটি কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন আর নিন্মআয়ের মানুষের অবস্থা তো আরও করুণ।
শনিবার টঙ্গীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে এখনও বেশির ভাগ সবজির কেজি ৫০ টাকারও বেশী। শুধু আলু, কচু, মুখী,
পেঁপে ছাড়া। গত সপ্তাহের ব্যবধানে সব প্রকারের নিত্যপ্রয়োজনী দ্রব্যের দাম বেড়েছে দুই, তিনগুন। অপরদিকে মুরগী মাংসের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। মুরগি ব্যবসায়ীরা বলছে, টানা দুই মাস ধরে মুরগির বাচ্চা ও খাদ্যের দাম বাড়ায় মুরগিসহ ডিমেরও দাম বেড়েছে।
এমন পরিস্থিতিতেও নতুন করে বেড়েছে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, আটা, ময়দাসহ অন্তত এক ডজন নিত্যপণ্যের দাম আর সোয়াবিন তৈল তো বাড়ছে দফায় দফায়। ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, বাজারে পর্যাপ্ত পরিমানে নিত্যপণ্য সামগ্রী মজুদ থাকলেও তা দাম বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে অধিকাংশ দোকানেই মূল্য তালিকা টাঙ্গানো নেই। এই সুযোগে বিক্রেতারা তাদের ইচ্ছে মতো দাম হাকাঁচ্ছেন। বাধ্য হয়ে পণ্য কিনছে ক্রেতারা। বাজারে আসা কয়েকজন ক্রেতা বলেন, জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে যাদের আয় সীমিত তারা স্বাচ্ছন্দ্যে কোন কিছুই কিনতে পারছেন না।
চাকরিজীবী একাধিক ব্যক্তি জানান, নিত্যপণ্যের সবকিছুতেই যেভাবে দাম বেড়েছে তাতে আমাদের মতো পরিবার তিন বেলা
মোটামোটিভাবে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। একদিকে বেতন সীমিত, অন্যদিকে সাংসারিক ব্যয় বেড়েছে। নিত্যপণ্যের দাম কেন ঊর্ধ্বমুখী—এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা কোন সুউত্তর দিতে পারেনি। তারা নানা অজুহাত দেখিয়ে একে অপরকে দোষ
দিচ্ছেন। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, অনেক ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে দাম বাড়াচ্ছেন। খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারদের কাছে মজুত থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী পণ্য পাচ্ছেন না তাঁরা। পাইকারি পর্যায়ে পণ্য কিনতে হচ্ছে বেশি দামে। তারা বলছেন, দামের লাগাম টানতে হলে পাইকারি পর্যায়ে সরকারকে আরো উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি বাড়াতে হবে তদারকিও।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে, দেশে পর্যাপ্ত খাদ্যপণ্যের মজুত রয়েছে। কিন্তু বাজারে নিত্যপণ্যের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। আর নিয়ন্ত্রণে রাখার দায়িত্বে থাকা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেলের তেমন কোনো তৎপরতা নেই। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরও সারা বছরের কার্যক্রমের মতো গতিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ তাদের কার্যক্রম। নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখীর ব্যাপারে সচেতন মহল বলছেন, স্বাধীন দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বল্গাছাড়া অবস্থা দরিদ্র ব্যক্তিদের পক্ষে বজ্রাঘাততুল্য।
বিভিন্ন শ্রেণির ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি করছে। ব্যবসায়ীরা ইচ্ছে মতো বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। সরকারকে কঠোরভাবে অতিলোভী এসব ব্যবসায়ীকে দমন করতে হবে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য তালিকা টাঙ্গানো, নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রয় করা হচ্ছে কি না, সেটিও পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতিটি বাজারে দ্রব্যমূল্য মনিটরিং কমিটি গঠনের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকার ও ব্যবসায়ীদের সদিচ্ছাই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করে দেশের সাধারণ মানুষের একটু সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা প্রদানে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে সক্ষম।