
সালেকুজ্জামান সালেক,রংপুরঃ রংপুর বিভাগের হিমাগার গুলোতে সংরক্ষিত ৫০ শতাংশ আলু অ-বিক্রিত রয়েছে। এতে হাজার কোটি টাকা লোকসানের মূখে রয়েছেন আলু ব্যবসায়ীরা।শুক্রবার চেম্বার অব কমার্সের উদ্যোগে ‘হিমাগারসমূহে সংরক্ষিত আলুর সার্বিক পরিস্থিতি ও ২০২২ সংরক্ষন মৌসুমে করনীয়’’ বিষয় নিয়ে রংপুর বিভাগীয় হিমাগার মালিকগণের এক মতবিনিময় সভায় এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। রংপুর চেম্বারের সভাপতি মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটুর সভাপতিত্বে আরসিসি আই অডিটরিয়ামের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই এর সিনিয়র সহ- সভাপতি, বিসিআই ও রংপুর চেম্বারের সাবেক সভাপতি, মোতাহার গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজ এর কর্ণধর মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু।
এছাড়া মত বিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টিএমএসএস এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বগুড়া জেলা হিমাগার মালিক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ডক্টর হোসনে আরা বেগম, বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ এসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ইজাব গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইসতিয়াক আহমেদ, ইউনুছ গ্রুপ ঢাকা এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুছ, রংপুর চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআই এর সাবেক পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোছাদ্দেক হোসেন বাবলু, রাজ্জাক গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ঠাকুরগাঁও চেম্বারের সভাপতি হাবিবুল ইসলাম বাবলু।
অনুষ্ঠানে হিমাগার মালিকদের বক্তব্য রাখেন দিনাজপুরের এম রহমান কোল্ড স্টোরেজ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূরুল মঈন মিনু, লালমনিরহাটের তিস্তা হিমাগারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকসুদ আহমেদ, ভরসা গ্রুপের পরিচালক ও আজিজুন নেছা কোল্ড স্টোরেজ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমদাদুল হক ভরসা, ঠাকুরগাঁও এর হাওলাদার কোল্ড স্টোরেজ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সালাম, কুড়িগ্রামের মোস্তফা হিমাগারের পরিচালক জাহাংগীর আলম, নীলফামারীর মুক্তা হিমাগারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম বাবু, রংপুরের ব্রাদার্স কোল্ড স্টোরেজ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক একরামুল হক, বগুড়া জেলা কোল্ড স্টোরেজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।
সভায় আলু সংরক্ষন মৌসুমে করনীয়’’ বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাবনা ও মতামত ব্যক্ত করে হিমাগার মালিকরা বলেন, সারাদেশে করোনায় হোটেলসহ সব কিছু বন্ধ থাকায় রংপুর বিভাগের ৮০টি কোল্ড স্টোরেজ ৫০ শতাংশ আলুই পড়ে আছে। কিন্তু বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও খরচের তুলনায় বাজারে দাম কম থাকায় অনেক কৃষক ও ব্যবসায়ী হিমাগার থেকে আলু তুলছেন না। এর ফলে রংপুর বিভাগের হিমাগারে শেডভর্তি আলু অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে।
তাই সংরক্ষিত আলু আগামী দুই মাসের মধ্যে বাজারজাত করতে না পারলে প্রায় হাজার কোটি টাকা লোকসানের আশংকা করছেন রংপুর বিভাগের হিমাগার মালিকগন। তাই রংপুর বিভাগের হিমাগার মালিকগণ সরকারকে এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহব্বান জানান। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এফবিসিসিআই এর সিনিয়র সহ- সভাপতি, বিসিআই ও রংপুর চেম্বারের সাবেক সভাপতি, মোতাহার গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজ এর কর্ণধর জনাব মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, চলতি মৌসুমের আলু বাজারজাতকরণের আর মাত্র দুই মাস বাকি। এর মধ্যে সংরক্ষিত আলু বাজারজাত না হলে বিপুল পরিমাণ অবিক্রীত থাকবে। সেগুলো ফেলে দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।
তাই তিনি ভর্তুকি দিয়ে হিমাগার মালিকদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সরকারের প্রতি আহব্বান জানান। তিনি বলেন, আলু উৎপন্নের খরচের তুলনায় বাজার মূল্য কম হওয়ায় হিমাগার থেকে আলু বের করতে এখন অনীহা দেখাচ্ছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। বিগত ১০ বছরের মধ্যে ছয় বছরই লোকসান দিয়ে হিমাগার মালিকরা পথে বসার উপক্রম হয়েছেন। তাই হিমাগার মালিকগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের আহব্বান জানান। পরিশেষে তিনি প্রতিটি জেলায় কোল্ড স্টোরেজ মালিকদের সংগঠিত করতে সংগঠন তৈরি করার আহব্বান জানান। মত বিনিময় সভায় ্ধসঢ়;রংপুর বিভাগের আওতাধীন রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা জেলার হিমাগারের মালিক-প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন
শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাকিব রাইয়্যানের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল