
এম,এ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধি: আর মাত্র কয়েকদিন পর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা। বগুড়ার ১২টি উপজেলা ও পৌর এলাকায় এ বছর ৬৯৪টি পূজা মণ্ডপে চলবে দুর্গা বন্দনা। প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে, এখন চলছে রং তুলির কারুকার্য। প্রতিমা শিল্পীরা রং তুলির কাজ নিয়ে পার করছেন ব্যস্ত সময়।
দেবী দূর্গাকে স্বাগত জানাতে প্রতিমা তৈরী ও মন্দির সাজসজ্জায় শিল্পীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চুক্তিতে এসে ব্যস্ত সময় পার করছেন এখন। সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে তাদের ব্যস্ততা। আগামী ১১ অক্টোবর মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে মন্ডপে মন্ডপে বেজে উঠবে ঢাক-ঢোল আর কাসার শব্দ। পাঁচ দিনের উৎসবের পর ১৫ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের পর ঘটবে এর সমাপ্তি।
বগুড়া শহরের চেলোপাড়া, দত্তবাড়ি, শিববাটি মাটিডালি, মগলিশপুরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার পূজা মন্ডপে ঘুরে দেখা যায়, কাঁদা, মাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিল তিল করে গড়ে উঠা দেবী দূর্গার প্রতিমা তৈরীতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরীর কারিগররা।
শহরের মগলিশপুর শ্রী শ্রী সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের প্রতিমা কারিগর-গনেশ চন্দ্র পাল জানান, মাটির কাঠামো নির্মানের মূল কাজ ইতিমধ্যেই শেষ করেছেন। এখন বাকি রং তুলির ছোঁয়া, আর প্রতিমার রুপ-যৌবনা ফিরিয়ে আনা। এদিকে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি আছে দুর্গাপূজার। প্রতিমা মোটামুটি তৈরি হয়েছে। এখন শুধু রং দিয়ে সৌন্দর্যবর্ধিত করতে হবে।
বগুড়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দিলীপ কুমার দেব জানান, এ বছর জেলায় ৬৯৪ টি পূজামন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর ৬৩৩টি পূজামন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এছাড়া গত ২০১৯ সালে ৬৬৭টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, এবছর বগুড়া সদর উপজেলায় ১১৯টি পূজামন্ডপ, দুপচাঁচিয়ায় ৪০টি, কাহালুতে ৩৭টি, নন্দীগ্রামে ৪৪টি, আদমদীঘিতে ৬৪টি, শেরপুরে ৮৬টি, ধুনটে ৩৬টি, শিবগঞ্জে ৬০টি, সোনাতলায় ৫০টি, সারিয়াকান্দিতে ২৩টি, গাবতলীতে ৭৭টি এবং শাজাহানপুরে ৫৭টি পুজামন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি বলেন, এবছরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পড়ে পূজামন্ডপে প্রবেশ করাসহ অন্যান্য নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
বগুড়া সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার রায় জানান, এবার বগুড়া সদর উপজেলায় ১১৯টি পূজামন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মহামারী করোনার কারনে এবছরও শারদীয় দূর্গোৎসব স্বাস্থ্যবিধি মেনে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
বগুড়া জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলায় ৬৯৪টি পূজামন্ডপে ৫০০ কেজি করে ৩৪৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয়।
বগুড়া পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী (বিপিএম-সেবা) জানান, বগুড়ায় শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং নির্বিঘ্নে উদযাপনের লক্ষ্যে তিনধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিমা তৈরী থেকে বিসর্জন পর্যন্ত সার্বিক নিরাপত্তায় কাজ করবে জেলা পুলিশ। এছাড়া দুর্গাপূজা চলাকালিন মাদক, ইভটিজিং, ছিনতাই, পকেটমার প্রতিরোধে পুলিশের বিশেষ টিম তৎপর থাকবে। যেহেতু দর্শনার্থীদের সমাগম বাড়বে এজন্য সড়কে যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাও জোরদার থাকবে। তিনি বলেন এবছরও করোনার কারনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং নির্বিঘ্নে উদযাপনের অংশ হিসেবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও আয়োজকদের সাথে সভা করা হয়েছে। সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তাদের।।

আরও পড়ুন
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল
ক্ষেতলালে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ৩১ পিস ট্যাপেনটাডলসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ