
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের বন্দরে পারিবারিক কলহের জেরে নিজ পুত্র বাপ্পী শেখ (২১)এর ছুরিকাঘাতে আহত বিল্লাল শেখ (৪৪) হাসপাতালে ১৩ দিন মৃত্যুর সাথে লড়াইয়ের পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছেন। গুরুতর জখম হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন নিহতের ২য় স্ত্রী আমেনা বেগম (৩৫)। এ ঘটনায় ঘাতক বাপ্পী শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত বিল্লাল শেখ শরিয়তপুর জেলার নড়িয়া থানার পাচক এলাকার মৃত রমিজ উদ্দিন শেখের ছেলে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে।
এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ভোর ৬টায় জেলার বন্দর উপজেলার নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক)এর ২৩ নং ওয়ার্ডের নবীগঞ্জ কদম রসুল কলেজ মাঠ এর মুন্সীবাড়ি এলাকায় এই ছুরিকাঘাতের ঘটনাটি ঘটে। এ ব্যাপারে নিহতের ছোট ভাই হেলাল শেখ বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে বাপ্পী শেখকে আসামী করে বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। যার মামলা নং- ১০(১১)২১ তাং- ৭-১০২০২১ইং। ধারা- ৩০৭/ ৩২৪/ ৩২৬/ ৩০২ পেনাল কোড- ১৮৬০।
মামলার বিবরণে জানা যায়, বিল্লাল শেখের ১ম স্ত্রী মারা যাওয়ার কারনে গত ৩/৪ মাস পূর্বে সে আমেনা বেগম নামের এক মহিলাকে বিয়ে করে। বিল্লাল শেখ তার ২য় স্ত্রী আমেনা বেগমসহ ছেলে বাপ্পী শেখ, বড় মেয়ে উর্মি (১৪) ও ছোট মেয়ে নুসরাত (৫)কে নিয়ে বন্দরের নবীগঞ্জ কদম রসুল কলেজ মাঠ সংলগ্ন মুন্সী বাড়িতে বাস করতো। বাপ্পী তার সৎ মা আমেনা বেগমের সাথে প্রায়ই অশুভ আচরণ করতো। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া বিবেদ ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৪ সেপ্টেম্বর ভোর ৬টায় বাপ্পী তার সৎ মাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাথারী কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। সৎ মায়ের চিৎকারে স্বামী বিল্লাল শেখ তাকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসলে বাপ্পী তাকেও এলোপাথারী ছুরিকাঘাত করে। ঘটনার পর এলাকাবাসী মুমুর্ষ অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের ঢামেক হাসপাতালে প্রেরণ করার নির্দেশ দেন। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিল্লাল শেখের মৃত্যু হয়।
এ ব্যাপারে বন্দর থানার অফিসার্স ইনচার্জ দীপক চন্দ্র সাহা গণমাধ্যমকে জানান, হত্যাকান্ডের ঘটনায় থানায় নিহতের ছোট ভাই বাদী হয়ে মামলা করেছেন। এরই মধ্যে মামলার আসামী বাপ্পীকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।