হোম » সারাদেশ » বাসাইলে প্রতিমার সঙ্গে ৫০ বছর ভারত পালের

বাসাইলে প্রতিমার সঙ্গে ৫০ বছর ভারত পালের

অর্ণব আল আমিন, বাসাইল, টাঙ্গাইলঃ ছোট সময় থেকে হাতেখড়ি বাবার হাতে, নিখুঁতভাবে মনের মাধুরী মিশিয়ে তৈরি করেন প্রতিমা।তার হাতের কারুকাজ যেনো মুগ্ধতা সৃষ্টি করে।প্রতিমা তৈরি যেনো মিশে আছে তার মনে প্রাণে।শিল্পীর ছোঁয়ায় তৈরি করছেন দূর্গা দেবীকে।বলছিলাম টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের  রাশড়া গ্রামের ভারত পালের কথা।ছোট সময় থেকেই প্রতিমা তৈরি তার ধ্যান-জ্ঞান।বয়স যখন ১০ বছর তখন থেকে বাবার সাথে হাতেখড়ি হয় প্রতিমা তৈরির। মনকে উজাড় করে দিয়ে তৈরি করেন প্রতিমা।তার হাতের কারুকাজ প্রতিমা তৈরিতেই ফুটে আসে।৫০ বছর ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায়  তৈরি করছেন প্রতিমা।
আর ক’দিন বাদেই আসছেন দেবী দুর্গা।তাই শিল্পীর নিপুণ হাতে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। নিখুঁতভাবে মনের মাধুরী মিশিয়ে ফুটিয়ে তুলছেন দূর্গা দেবীকে। পাশাপাশি চলছে লক্ষ্মী, স্বরস্বতী, গণেশ ও কার্তিকের প্রতিমা তৈরির কাজ।প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।আগামী মাসের (১১ অক্টোবর) ৬ষষ্ঠী পূজার মধ্যে দিয়ে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়,কোন মন্ডপে করছেন কাঠামো তৈরি আবার কোথায় করা হচ্ছে মাটির কাজ।প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।দেড় মাস আগে থেকেই শুরু করে দেন প্রতিমা তৈরির কাজ। তিনি রাত-দিন পরিশ্রম করে নিপুণ হাতে তৈরি করছেন দেবী দুর্গাকে।ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন প্রতিমা তৈরিতে যেন দম ফেলার ফুসরত নেই তার ।
প্রতিমা শিল্পী ভারত পাল জানান, ছোট সময় থেকে বাবার কাছে প্রতিমা তৈরির কাজ শিখি।প্রতিমা তৈরি আমার আত্মার সাথে মিশে আছে।আমার বয়স যখন ১০ বছর তখন থেকেই প্রতিমা তৈরির কাজে লেগে পড়ি।মনের আবেগ আর ভালোবাসা দিয়েই প্রতিমা তৈরি করি।প্রতিমা তৈরিই আমার ধ্যান-জ্ঞান।প্রতিমা তৈরি কাজে নিয়োজিত রয়েছি প্রায় ৫০ বছর ধরে।এবছর প্রায় ১৪টি প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। কোনো মন্ডপে চলছে কাঠামোর কাজ আর কোনো মন্ডপে চলছে মাটির কাজ।আমার ছোট দুই ভাইও প্রতিমা তৈরির কাজের সাথে জড়িত রয়েছে।এবছর প্রতিমা তৈরি সরঞ্জামের দামটাও বেশি।
উপজেলার রাশড়া গ্রামের যাদব পাল জানান, ভারত ছোট সময় থেকে প্রতিমার তৈরির কাজ করছে।প্রায় ৫০ বছর ধরে প্রতিমা তৈরি করছে।বাসাইল ছাড়াও পাশ্ববর্তী উপজেলা সখীপুরে প্রতিমা তৈরিতে ভারতের সুনাম রয়েছে।শোনেছি এবছর ১৪টি প্রতিমার তৈরির কাজ করতেছে।
উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের জিকাতলী পাড়া গ্রামের শীতল চক্রবর্তী জানান, ছোট সময় থেকে দেখছি কাকা প্রতিমা তৈরি করছে।আমি মাঝে মাঝে কাকার প্রতিমা তৈরি দেখতে যেতাম।যতই দেখতাম  আর কাকার দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতাম।কি অসাধারণ নিখুঁত হাতের কারুকাজ।
উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি গৌরাঙ্গ মোহন সরকার বলেন, করোনাকে মাথায় রেখে দুর্গা পূজার সব ধরনের প্রস্তুতির কাজ এগিয়ে চলছে। উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ৫৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুনুর রশিদ বলেন, ‘মণ্ডপগুলোতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। কোথাও কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেওয়া হবে না।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনজুর হোসেন বলেন, দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন করতে কেন্দ্র থেকে যে নির্দেশনা আসবে সে মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!