
হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : যমুনার ভাঙ্গন কবলিত স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন যে কোন ভাবেই থামছে না। সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে ইজারা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলনের ফলে সরকারও হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব। জেলার কাজিপুর উপজেলার যমুনা নদীর পূর্ব তীরের সংরক্ষণ বাঁধের পাশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছেই। এতে হুমকির মুখে পড়েছে কাজিপুর উপজেলার শুভগাছা ইউনিয়নের বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়ি বাঁধ এবং তারাকান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। আতংকে রয়েছে শুভগাছা ইউনিয়নের বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়ি বাঁধে বসবাসকারী হাজার হাজার পরিবার।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর গত (১৭ আগষ্ট) সারজিল সম্পদ বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। কাজিপুর উপজেলার শুভগাছা ইউনিয়নের বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়ি বাঁধের পাশে যমুনা নদীর পূর্ব তীরের সংরক্ষণ বাঁধের পাশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বিক্রি করছে রতনকান্দি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আলী হোসেন, মুকল সেখ, রেজাউল মন্ডল, রেজাউল তালুকদার গংরা। এতে বাঁধটি হুমকির মুখে পড়েছে। এদিকে, কোনো ধরণের ইজারা ছাড়াই রতনকান্দি হাটের উত্তর পাশে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলনের ফলে সরকারও হারাচ্ছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব।
বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০-এর (৪)-এর (খ) ও (গ) ধারা অনুযায়ী, সেতু, কালভার্ট, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু তোলা যাবে না। নদীর তীর ভাঙনের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও বালু তোলা নিষেধ।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় ভূমি অফিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই যমুনা নদীর ভরা মৌসুমে নদীর পূর্ব তীরে খননযন্ত্র বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এ বালু ট্রাকে করে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। শনিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, শুভগাছা ইউনিয়নের বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়ি বাঁধ এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে রতনকান্দি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আলী হোসেন, মুকল সেখ, রেজাউল মন্ডল, রেজাউল তালুকদার, ইসমাইল, টুনিসহ দলীয় লোকজন জোরপূর্বক ড্রেজার বসাইয়ে বালু ও মাটি কাইটে নিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি মাটি তুলে ভিটেবাড়ি ভরাটের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বলেন, যাঁরা বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত, তাঁরা স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এ জন্য তাঁদের কেউ কিছু বলে না। নদী থেকে বালু উত্তোলন করে প্রতিদিন ১০ চাকার ট্রাকে বালু বিক্রি করছে। বালু উত্তোলন করায় এলাকার ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে। বাড়ীঘর, মুরগির ফার্মসহ আশপাশের বাড়ীতেও পানি উঠে গেছে। এলাকাবাসী এ ব্যাপারে প্রশাসনের নিকট কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ভুক্তভোগীরা বলেন, বালুর ব্যাপারে কথা বললেই বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দেওয়া হয় তাদের।
এ বিষয়ে কাজিপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাহিদ হাসান সিদ্দিকী বলেন, বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ করার পর আবারও যদি কেউ বালু উত্তোলন করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বালু উত্তোলনের বিষয়টি কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছে। তিনি বিষয়টি দেখছে।

আরও পড়ুন
কাউখালীতে বাবা-মায়ের সঙ্গে অভিমানে স্কুলছাত্রের আত্মহত্যা
নওগাঁয় ডেঙ্গু মশা সম্পর্কে সচেতনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৪০০ জন দুঃস্থদের মাঝে মশারি বিতরণ
নওগাঁয় আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত