প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ১:৩৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২, ২০২১, ৪:২৮ অপরাহ্ণ
বিপদসীমার ৬০ সি.মি ওপরে যমুনার পানি, দুর্ভোগে বন্যা কবলিত মানুষ

হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যেই পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার অর্ধলাখেরও বেশি মানুষ, তলিয়ে গেছে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল।
বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১২ টায় যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টের গেজ মিটার (পানি পরিমাপক) আব্দুল লতিফ। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল। পানি বৃদ্ধিতে দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট। তলিয়ে গেছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ, রাস্তাঘাট, বিস্তীর্ণ রোপা আমনের ক্ষেত। ভাঙনে
দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সদর, চৌহালী ও শাহজাদপুরের নদী পারের মানুষ। তবে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধে চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড। গত ১৪ আগস্ট থেকে শুরু করে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার নদী তীরবর্তীর নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার বসতবাড়ি ও রাস্তঘাটে পানি ওঠায় বিপাকে পড়েছেন বন্যা দুর্গতরা। অনেকেই বাড়ি-ঘর ছেড়ে উঁচু রাস্তা বা স্কুল মাদ্রাসার মাঠে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, গত কয়েক দিন হলোই যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বন্যা পূর্ভাবাস সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি আরও দুদিন অব্যাহত থাকবে। তবে পানি বিপদসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত বন্যার তেমন কোনো ঝুঁঁকির পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলেও জানান এই কর্মকর্তা। সিরাজগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম বলেন, ইতো মধ্যে সদর ও শাহজাদপুরের কিছু এলাকায় ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছি।
জেলার ৫টি উপজেলায় ২০০ মেট্রেক টন চাল ও নগদ ১ লাখ করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তারা সেটা তাদের চাহিদা অনুযায়ী যেকোনো সময় বিতরণ করবেন। এ ছাড়া জেলায় ৭২১ মেট্রিক টন চাল ও আড়াই লাখ টাকা মজুত রাখা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ সির্ভিল সার্জন ড. রামপদ রায় জানান, বন্যা কবলিত এলাকায় আমাদের মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। বিশুদ্ধ পানি, খাবার স্যালাইন ও ট্যাবলেট বিতরণ করা হচ্ছে। সেই সাথে সার্বক্ষিন বন্যাকবলিত মানুষদের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.