
হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : আসন্ন দূর্গা পূজাকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে রং তুলির আঁচড়ে সাজছেন দেবী দুর্গা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গা পূজা। দুর্গা পুজাকে ঘিরে সিরাজগঞ্জে পালপাড়াতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। ইতি মধ্যে সিরাজগঞ্জের বেশির ভাগ প্রতিমা তৈরীর অবকাঠামোর কাজ শেষ। শুরু হয়েছে দেবী দূর্গার অনিন্দ্য সুন্দর রুপ দিতে দিনরাত রং-তুলির মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছেন এই প্রতিমা শিল্পীরা। জেলার পূর্জা মন্ডবগুলোতেও কাজ শেষের দিকে।
যদিও এবার আলোক সজ্জার কোন আয়োজন নেই, তবুও আয়োজনের কোন কমতি নেই। এবার জেলার ৯টি উপজেলার প্রায় ৪৭০টি মন্ডবে সামাজিক দুরুত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারদীয় দূর্গা পুজা অনুষ্ঠিত হবে। সরেজমিনে গিয়ে জেলার বিভিন্ন পালপাড়ায় দেখা যায়, করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রতিমার অর্ডার অনেকটাই কমে গেছে। জেলার সদর, কামারখন্দ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, রায়গঞ্জ, তাড়াশ, বেলকুচি, কাজিপুর, ও চৌহালীর বিভিন্ন পূজামন্ডপে দেবী দূর্গার অনিন্দ্য সুন্দর রুপ দিতে দিনরাত রং-তুলির মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিমা শিল্পীরা।
খড় আর কাঁদামাটির প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে। শুরু হয়েছে রং তুলির কাজ। রং তুলিতে সাজানো হচ্ছে প্রতিমার অপরুপ সুন্দরর্য্য। তবে অসুর নাশিনীর দেবী দুর্গাকে নানা রঙে রাঙালেও প্রতিমা তৈরির উপকরণ ও রঙের দাম বেড়ে যাওয়ায় ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রতিমা তৈরীর কারিগররা। এজন্য অনেক প্রতিমা শিল্পীর মুখ ভার। পঞ্জিকা মতে আগামী রোববার (২২ অক্টোবর) শুরু হয়ে ৫ দিনব্যাপী চলবে হিন্দু ধর্মের সব চয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা। প্রতিমা শিল্পীরা জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে এসে রং তুলির কাজ করছে।
প্রতিটি পূজা মন্ডপ এর জন্য তৈরী হচ্ছে দূর্গা, শরস্বতী, লক্ষী, গনেশ, কার্তিক, অসুর, সিংহ, হাঁস, পেঁচা, সর্পসহ বিভিন্ন প্রতিমা। কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট পালপাড়ার প্রতিমা তৈরির কারিগর (৬৫) গুপিনাথ পাল বলেন, প্রতি বছর ২০/২৫টি প্রতিমা তৈরি করে থাকি। কিন্তু এ বছর মাত্র ১৫টি প্রতিমার কাজ করছি। এ বছর আমাদের অনেকটাই প্রভাব ফেলেছে করোনা। ১৫টি প্রতিমার মধ্যে এখনো ১ সেট প্রতিমা বিক্রি করতে পারিনি।
এখানেও আমাদের অনেকটাই লোকসান গুনতে হবে। আমি নিজেও বাব-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রায় ৪০ বছর যাবৎ এই পেশার সাথে জরিত রয়েছি। এরকম অবস্থা আমার বয়সে দেখিনি। রণজিত পাল ও সুভাষ পালসহ প্রতিমা শিল্পীরা বলেন, প্রতিমা তৈরির উপকরণ মাটি, খড় ও সুতলি- রঙের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো প্রতিমা তৈরি করে আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এবার পূজার মন্ডপের সংখ্যা কমে যাওয়ায় আমাদের প্রতিমাগুলোও বিক্রি কমে গেছে। তারা আরও বলেন, সিরাজগঞ্জের তৈরী প্রতিমা বগুড়া, পাবনা, টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুরসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করা হতো। কিন্তু করোনার প্রভাবে আমরা এই অর্ডারগুলো থেকে বঞ্চিত হয়েছে। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সন্তোষ কুমার কানু বলেন, আসন্ন শারদীয় দূর্গা পূজাকে বরন করতে প্রায় সব ধরণের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে।
করোনা ভাইরাসের কারণে এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা করতে হবে। শুধু সাজসজ্জার সামান্য কাজ বাকি। সামনে যে সময়
আছে তাতে আমরা সময় মত সব কাজ শেষ করতে পারবো। এ বছর সিরাজগঞ্জের ৯টি উপজেলার প্রায় ৪৭০টি পূজা মন্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন চলছে। সব মিলিয়ে আমাদের এবারের পূজা আনন্দঘন ও জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে শেষ হবে বলে আশাবাদি। সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হাসিবুল আলম (বিপিএম) জানান, এবারের পুজায় যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আনন্দ মুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোপূজা অনুষ্টিত হবে। তিনি আরও বলেন, তবে প্রতিটি মন্ডপে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক সাধ্য অনুযায়ী রাখতে হবে। একসাথে জটলা পাকানো যাবে না, সন্ধ্যা আরতি চলাকালে কোন উশৃঙ্খল আচরণবিধি লঙ্গন করা যাবে না। প্রতিটি পূজামন্ডবে সার্বক্ষনিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়াও আনছারসহ মোবাইলটিম সার্বক্ষনিক পুজামন্ডবগুলো নজরদারী রাখবে। পাশাপাশি সবকটি পূজা মন্ডপে গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকবে বলে তিনি জানান।