
হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : ১৬ (অক্টোবর) থেকে সারা দেশে শর্ত সাপেক্ষে সিনেমা হল খুলে দিলেও সিরাজগঞ্জে খোলা হয়নি কোন সিনেমা হল। দেশী চলচিত্রে ভালো মানের ছবি নির্মান না থাকা, আর দির্ঘ সাত মাস বন্ধ থাকায় হলের আসবাপত্র ও যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ায় কারণে আর্থীক সংকট দেখিয়ে সিনেমা হলগুলো না খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালিকরা। কর্ম না থাকায় বেকার হয়ে আছে হলের কর্মচারীরা। হল খোলার জন্য সরকারী প্রনোদনার সুপারিশ করবেন জেলা তথ্য অফিস। এক সময় সিরাজগঞ্জে ৩৭টি সিনেমা হল ছিলো রমরামা।
সকাল থেকে মধ্যে রাত পর্যন্ত মানুষের সমাগম থাকতো এই জায়গাগুলোতে। নিম্ন মানের ও অশ্লীল ছবিসহ নানা কারণে বন্ধ হতে থাকে একের পর এক সিনেমা হল। কোভিট-১৯ এর কারণে সর্বশেষ চলমান ৮টি সিনেমা হল বন্ধ করে দেয় সরকার। এর পর থেকে সিনেমা হল চত্বরগুলোতে সুনশান নিরবতা। গতকাল ১৬ (অক্টোবর) শুক্রবার থেকে সিনেমা হলগুলোতে চলচিত্র প্রদর্শনের অনুমতি দিয়েছে সরকার।
কোভিট-১৯ এর বর্তমান পরিস্থিতিতে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি পালন ও সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করে সিনেমা হলের আসন সংখ্যার কমপক্ষে অর্ধেক খালি রাখার সাপেক্ষের অনুমতি দিলেও তা মেনে হল খুলতে রাজী না মালিকরা। করোনা কালে হল বন্ধ থাকায় হলের সকল আসবাপত্র ও যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। মালিকদের নেই তেমন কোন অর্থ। তাই নতুন করে চালু করতে যে পরিমান অর্থের প্রয়োজন তা জোগান দিতে পানছেনা তারা। তাই সরকারী সহযোগীতা আর প্রনোদনা না পেলে কখনোই চালু করতে পারবেনা হলগুলো। অন্যদিকে বেকার কর্মচারীরা অর্ধহারে অনাহারে চলছে তাদের জীবন।
হল চালু হলে কর্ম ফিরে পাবে প্রত্যাশা কর্মচারীদের। বেলকুচি রজনীগন্ধা সিনেমা হলের অপারেটর আব্দুর রাজ্জাক জানান, দির্ঘ সাত মাস যাবৎ কোন কাজ নেই পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। করোনা কলে অনেকেই সরকারী সহযোগীতা ও ত্রাণ পেয়েছে আমরা কিছুই পাইনি। সিরাজগঞ্জ মমতাজ হলের গেটম্যান অনিল কুমার জানান, করোনার শুরুতেই মালিকরা আমাদের বেতন দিয়ে চাকরী থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছে।
কোন কাজ না পেয়ে হলের সামনে পানের দোকান দিয়ে বসে আছি। হল মালিকরা হল না খুললে আমরা কি করে খাবো বুঝে উঠতে পাছিনা। রজনীগন্ধা সিনেমা হলের মালিক আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল জানান, একদিকে যেমন আমাদের দেশের চলচিত্রে ভালো মানের ছবি নেই অন্যদিকে ভারতের চলচিত্র করালগ্রাসে ধক্ষংস করছে সিনেমা হল। করোনার পর অর্থ সংকটের কারণে নতুন করে চালু করা সম্ভব হচ্ছেনা।
সরকার যদি আমাদের প্রনোদনা দিয়ে সহযোগীতা করে তবেই সম্ভব হল চালু করা। সাগরিকা সিনেমা হলের মালিক আব্দুল আজিজ জানান, নব্বই দশকে যে ব্যবসা ছিলো তা অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে ইন্টানেটের যুগে সকলের হাতেই একটা করে সিনেমা হল রয়েছে। কেন তারা কষ্ট করে হলে এসে ছবি দেখবে আর আমাদের দেশের চলচিত্রের যে অবস্থা আগের সেই গল্প, আর্ট্রিস নেই। অশ্লিলতায় ভরে গেছে সিনেমার ফ্লিম। এখন সরকার উদ্যোগ নিয়ে যদি চলচিত্রকে রক্ষা করতে পারে তবেই হল চালুকরা সম্ভব। জেলা তথ্য অফিসার মোহাম্মদ আবুল খায়ের জানান, বর্তমানের সিনেমা গুলো নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে।
করোনার শুরুতে সিনেমা হলগুলো সরকার বন্ধ করে দিয়েছিলো। এখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিনেমা হলগুলো খোলার জন্য মালিকদের সাথে কথা বলা হবে। আর সরকারী প্রনোদনা ও সহযোগীতার জন্য জেলা প্রশাসক এবং তথ্য মন্ত্রনালয়ে সুপারিশ পাঠানো হবে। কোন প্রকার সহযোগীতা এলেই মালিক কর্মচারীদের মাঝে বিতরন করা হবে। একসময়কার বিনোদন মাধ্যোম এই সিনেমা হল বাচাতে ও দর্শকদের হল মুখি করতে রুচি সম্মত ছবি নির্মান করে এই শিল্পকে জাগিয়ে তুলবে সরবার এমটাই প্রত্যাশা হল মালিক কর্মচারীদের।