
এম,এ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ককটেল বিস্ফোরণ, মশাল মিছিল, হামলা ও নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) সন্ধ্যায় উপজেলার গোসাইবাড়ী সাতমাথার মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি মো. আব্দুল লতিফ (৬০)। তিনি উপজেলার পূর্ব গুয়াডহুরী গ্রামের মৃত কছিম উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধুনট থানার এফআইআর নং-৭ (তারিখ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫) এবং জি.আর. নং-২২৭ মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪২, ৩২৩, ৫০৬ ও ১১৪ ধারার পাশাপাশি Explosive Substances Act, 1908-এর ৩, ৪, ৫ ও ৬ ধারায় দায়ের করা হয়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৪০ মিনিটে ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের ভুবনগাতি উত্তরপাড়া তিনমাথা মোড়ে কয়েকজন ব্যক্তি মশাল মিছিল বের করে। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে একাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। আকস্মিক বিস্ফোরণের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি সৃষ্টি হয়।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন মিছিলটি প্রতিহত করার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় এবং ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বাদীসহ কয়েকজনকে আহত করে। পরে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। আহতরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, ঘটনার পর থেকেই আব্দুল লতিফ আত্মগোপনে ছিলেন। দীর্ঘদিন নজরদারির পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে পুলিশের দাবি। মামলার অন্যান্য তথ্য-উপাত্তও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) কঠোর পুলিশ পাহারায় তাকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার স্বার্থে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য তাকে জেলহাজতে রাখার আবেদন জানায় পুলিশ। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, “মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দায়ের হওয়া এ মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।