
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল এন্ড রুরাল ট্রান্সফোরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্টারপ্রেনারশিপ এন্ড রেসিলেন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্পের আওতায় গাজীপুরে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট এ বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে। চলমান ওই ড্রেন ও লেভি নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জানা যায় নিন্মমানের পাথর ও নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে চলছে ড্রেন ও লেভি নির্মাণের কাজ।
বারি'র প্রকল্পের পশ্চিম মাঠ (যোগীতলা রোড) টেন্ডার অনুযায়ী সকল প্রকার ঢালাই কাজে ইস্টুন চিপস (পাথর) দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে ব্রিকস চিপস (খোয়া)। এছাড়া ড্রেনের পাশের গর্ত বালু দিয়ে ভরাট করার কথা থাকলেও ভরাট করা হয়েছে ড্রেন খননের সময় পাশে তুলে রাখা মাটি দিয়ে। ড্রেনের ঢালাই দিনের আলোতে ইঞ্জিনিয়ারের উপস্থিতিতে দেয়ার কথা থাকলেও ঢালাই দেওয়া হয়েছে রাতের আধারে।
সোমবার (১৪ জুলাই) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট এর প্রধান ফটক দিয়ে একটু সামনে পশ্চিম পাশের রাস্তার উপর ফেলে রাখা হয়েছে অত্যান্ত নিন্মমানের মিক্স পাথর। কাগজে পত্রে ভারতের পাকোরিয়া পাথর থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিন্মমানের মিক্স পাথর দিয়ে কাজ করছে। একটু সামনে এগুলে দেখা যায় ধানের প্রদর্শনী প্লটের পাশ দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। ড্রেনের পাশের গর্ত বালু দিয়ে ভরাট করার কথা থাকলেও ভরাট করা হয়েছে মাটি দিয়ে। মাটি দিয়ে গর্ত ভরাট করার পর উপরে বালুর প্রলেপ দিয়ে মাটি ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্রাদার এন্ড ব্রাদার এর সাইট ইঞ্জিনিয়ার সানিকে পাথরের মান এবং মাটি দিয়ে গর্ত ভরাট করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভুলে মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। ভারত থেকে বর্তমানে পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় এই পাথর দেওয়া হচ্ছে। এতো নিন্মমানের পাথর কেনো জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, "এগুলো ভুলে চলে আসছে, পরিবর্তন করা হবে"।
এই বিষয়ে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট এর পরিচালক (প্রশাসন) মো: আমিনুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার কোন সুযোগ নেই। আমি কাজগুলো সরেজমিনে দেখে ব্যবস্থা নিবো।
বারি'র ধান গবেষণা মাঠের চারপাশে ড্রেন ও লেভি নির্মাণের কাজ পেয়ে যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে ঢালি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড (ডিসিএল) ও ব্রাদার এন্ড ব্রাদার কনস্ট্রাকশন (বিবিসি)। কাজটির ব্যয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২২ কোটি টাকা। বর্তমানে ওই কাজের লিড দিচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্রাদার এন্ড ব্রাদার কনস্ট্রাকশন (বিবিসি)।