
পলাশ মিয়াঃ
বাংলাদেশে অনলাইন জুয়ার আগ্রাসন এক ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। সহজ উপার্জনের প্রলোভন আর প্রযুক্তির অপব্যবহারে দেশের লাখ লাখ মানুষ এখন পথে বসার উপক্রম। সরকারি পরিসংখ্যানেই উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক চিত্র—বর্তমানে প্রায় এক কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে অনলাইন জুয়ার সাথে জড়িয়ে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের কয়েক লাখ পরিবারের ওপর।
একসময় যারা সচ্ছল ছিলেন, অনলাইন জুয়ার মরণফাঁদে পা দিয়ে তাদের বড় একটি অংশ আজ নিঃস্ব। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, এমনকি শ্রমজীবী মানুষও এই নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে সমাজে সৃষ্টি হয়েছে এক অস্থির পরিস্থিতি:
প্রযুক্তির সহজলভ্যতাকে পুঁজি করে অপরাধী চক্রগুলো বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেশের আনাচে-কানাচে জুয়ার নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। বিকাশ, নগদ বা রকেটের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) ব্যবহার করে খুব সহজেই বাজি ধরা যাচ্ছে। ফলে কোনো ধরনের শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াই ঘরে বসেই তরুণ প্রজন্মসহ সব বয়সী মানুষ এই জালে আটকা পড়ছে।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এটি কেবল একটি ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সংকট। তারা মনে করছেন, দ্রুত কঠোর আইন প্রয়োগ এবং প্রযুক্তিগত নজরদারি বৃদ্ধি করা না হলে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান চালানো হলেও অপরাধীদের কৌশল পরিবর্তনের ফলে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল আইন দিয়ে নয়, পারিবারিক সচেতনতা এবং তরুণদের সুস্থ বিনোদনের সুযোগ নিশ্চিত করাই এই সংকট থেকে উত্তরণের মূল পথ।
বাংলাদেশ আজ এক নীরব মহামারির কবলে। অনলাইন জুয়ার এই থাবা থেকে পরিবার ও সমাজকে বাঁচাতে হলে রাষ্ট্র ও নাগরিক—উভয়কেই এখনই সোচ্চার হতে হবে। অন্যথায়, এই অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতির দায়ভার দীর্ঘদিন ধরে জাতিকে বহন করতে হবে।