
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি:
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় মায়ের ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগে মায়ের মামলায় পুত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদুল ইসলাম জাকির (৪২)কে পুলিশ গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ উপজেলার গেন্দারপাড়া গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ ও গ্রামবাসীদের সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের গেন্দারপাড়া গ্রামের মোজাম্মেল হক গুঠু তালুকদারের স্ত্রী ২পুত্র ও ১কন্যা সন্তান রেখে মৃত্যুবরণ করেন। গুঠু তালুকদারের প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি টাঙ্গাইলের আরফান আলী সরকারের কন্যা রাশেদা বেগমকে বিয়ে করেন। পরে ছেলে রাশেদকে জন্ম দেন তিনি। তারাকান্দি যমুনা সার কারখানা প্রতিষ্ঠার পর প্রথম পক্ষের স্ত্রীর পৈত্রিক সম্পত্তি বাবদ ২৫ হাজার টাকা ও গুঠু তালুকদারের টাকা দিয়ে শশুড় আরফান আলী সরকার কেন্দুয়া এলাকায় ৮বিঘা জমির মধ্যে নিজের মেয়ে রাশেদার নামে ৪ বিঘা এবং জামাতা, প্রথম পক্ষের পুত্র জাহাঙ্গীর ও নাতি রাশেদের নামে বাকী জমি ক্রয় করেন। জমি কেনার পর থেকেই রাশেদা বেগমের বড় ভাই আওয়ামীলীগ নেতা স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আহাম্মেদ আল ফরিদসহ তার ভাইয়েরা সেই জমি নিজেদের দাবি করে চাষাবাদ করে আসছেন। এ ছাড়াও রাশেদার পৈতৃক সম্পত্তির ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের দুই বিঘা জমির এক বিঘা তারা নিজেদের নামে রেখে দেন। মোজাম্মেল হকের মৃত্যুর পর তার সন্তানেরা সৎ মা রাশেদা বেগমকে নিজেদের মা মনে করে পিতার পেনশনের ৪ লাখ টাকা এবং প্রতি মাসের ১৮ হাজার টাকা বেতন উত্তোলনের লিখিত অনুমতিও দিয়েছেন। মা রাশেদা বেগমের সাথে সন্তানদের কোনো বিরোধ না থাকা সত্বেও ইউপি চেয়ারম্যান আহাম্মেদ আল ফরিদসহ মামারা বিবাদ জিইয়ে রেখেছেন। অতি প্রয়োজনে নিজেদের নামের সম্পত্তি বিক্রি করতে গেলে মামারা বাধাদিয়ে নামমাত্র মূল্যে তাদের কাছে বিক্রি করতে চাপ দেন বলে সন্তানদের অভিযোগ। সন্তানরা মাকে ভরনপোষনের দায়িত্ব পালন করা সত্বেও মামাদের প্ররোচনায় রাশেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভরনপোষন না দেয়ার অভিযোগে তার মা রাশেদা বেগম (৬৪) পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩-এর ৫(১) ও ৫(৫) ধারায় সরিষাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন। গত ৮ জুলাই পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে জামালপুরের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করে। এর আগে নিজ বাড়ীতে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেকে নির্দোশ দাবী করে রাশেদুল ইসলাম, তার সৎ ভাই জাহাঙ্গীর এবং বোনেরা বলেন, গত ৬ জুলাই কান্নাজড়িত কণ্ঠে কোরআন বুকে নিয়ে মা রাশেদা বেগমের বাড়ি ছাড়ার ঘটনাটিকে মামাদের প্ররোচনায় সম্পূর্ণ সাজানো নাটক। তারা জানান, সেদিন মামারাই আমাদের বাড়িতে এসে মাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল বুঝিয়ে নিয়ে গেছেন। মাকে নিজেদের জিম্মায় রাখলে মামাদের বড় লাভ। একদিকে মায়ের সম্পত্তি তারা ভোগ করতে পারবেন, অন্যদিকে প্রতি মাসে মায়ের কাছে আসা পেনশনের মোটা অঙ্কের নগদ টাকাও তারা হাতিয়ে নিতে পারেন।
প্রথম পক্ষের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম আক্ষেপ করে বলেন, রাশেদা বেগম আমার সৎ মা হলেও তাকে আমরা কখনো আলাদা করে দেখিনি। বাবার পেনশনের টাকাও তাকে আমরা দিয়ে দিয়েছি। আমরা চাই মা ভুল বুঝতে পেরে আমাদের মাঝে ফিরে আসুক। আমরা তাকে মায়ের মমতায় আজীবন আগলে রাখতে চাই।
এলাকার মাহজাবিন তালুকদার মিম বলেন, রাশেদা বেগম তার স্বামীর টাকায় কেনা সম্পত্তি তার ভাইকে লিখে দিয়েছে। তার আগের পক্ষের দুই ছেলে এক মেয়ে রয়েছে এতিম সন্তান এবং তার নিজের সন্তানকে ঠকিয়ে ২ কোটি টাকার সম্পত্তি তার ভাই টাংগাইল জেলার ধনবাড়ী উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাবেক চেয়ারম্যান ফরিদকে লিখে দিয়েছে। এক শালিশিতে তার আপন ছেলে রাশেদুল ইসলাম জাকির বলেছিলো, আমাকে জমি না দিলেও যেন ১ বিঘা সম্পত্তি তার সৎ ভাই বোনদের দেয়া হয়। কিন্তু তিনি রাজী না। মেয়ের বিয়ের পর সমস্ত গহনা সৎ মা রাশেদা বেগমের নিকট রেখেছিল। সেই গহনাগুলোও হাতিয়ে নেয় হয়।
রাশেদুল ইসলাম মাকে ভরনপোষণ প্রতি মাসেই দেন দাবীকরে বলেছেন, বাবার পেনশনের টাকা মা নিজেই এবং উনার ভাই ফরিদ চেয়ারম্যান ভোগ করেন। মামা ফরিদ নিজে সম্পত্তি ভোগের জন্য মাকে দিয়ে এসব করাচ্ছে।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, মায়ের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতেই অভিযুক্ত রাশেদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপরাধী যেই হোক, আইনের মুখোমুখি হতে হবে।
অভিযুক্তের পরিবারের আনা অভিযোগের বিষয়ে আহাম্মেদ আল ফরিদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন
গুড়ায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা: এলাকায় চাঞ্চল্য
কুলিয়ারচরে দুই বছর আগে গুম-খুন হওয়া যুবককে জীবিত উদ্ধার
নারীকে অশালীন ভিডিও-আপত্তিকর বার্তা পাঠানোর অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার