গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে এক গৃহবধূকে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর সৎ দেবরের বিরুদ্ধে। হামলায় ওই গৃহবধূর বাম হাতের হাড় ভেঙে গেছে। এ সময় তাঁর গলা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
উপজেলার ৪নং মাওহা ইউনিয়নের কিল্লাতাজপুর গ্রামে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় গৃহবধূ মোছাঃ মনোয়ারা বেগম (৪০) বাদী হয়ে তাঁর সৎ ছোট দেবর আহাদুজ্জামান খান আরজু (৩৫)-কে অভিযুক্ত করে গৌরীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কিল্লাতাজপুর গ্রামের মোঃ দেওয়ান আলী আজগর খানের স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের সাথে তাঁর সৎ দেবর মৃত দেওয়ান মিজান উদ্দিন খাঁনের ছেলে আরজুর দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বৈরিতা চলে আসছিল। গত ৭ জুলাই সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে মনোয়ারা বেগম নিজের বাড়ির উঠানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় আরজু আকস্মিক সেখানে প্রবেশ করে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে।
গালিগালাজ করতে নিষেধ করায় আরজু ক্ষিপ্ত হয়ে লোহার রড দিয়ে মনোয়ারা বেগমের মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করে। আত্মরক্ষার্থে তিনি হাত বাড়িয়ে দিলে রডের তীব্র আঘাতটি তাঁর বাম হাতের কনুইয়ের ওপরে লাগে, এতে তাঁর হাতের হাড় ভেঙে গুরুতর জখম হয়। এরপর আরজু লোহার রড দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম করে এবং তাঁর গলায় থাকা ৮ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়।
মনোয়ারা বেগমের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ও স্থানীয় সাক্ষীরা ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আরজু ও তার লোকজন ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা না করার জন্য বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আইনগত পদক্ষেপ নিলে মনোয়ারা বেগমসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের সুযোগ বুঝে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এই নৃশংস হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা প্রকাশ করে ভুক্তভোগী মনোয়ারা বেগম প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষী সৎ দেবরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত আহাদুজ্জামান খান আরজুর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গৌরীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহজালাল বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।