প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ১০, ২০২৬, ৪:১০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ১০, ২০২৬, ১২:৫৫ পি.এম
কাউখালীতে রোমান্স স্ক্যামের অভিযোগে পুলিশের হুঁশিয়ারি

কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
কাউখালী উপজেলায় অনলাইন ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে প্রতারণার (রোমান্স স্ক্যাম) অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অভিযোগের বিষয়ে অবগত হওয়ার পর কাউখালী থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের সতর্ক করেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগে যাদের নাম উঠে এসেছে, তারা সবাই স্কুলপড়ুয়া কিশোরী।
থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কিছু প্রাইভেট শিক্ষক কোচিং সেন্টার বা প্রাইভেট পড়ানোর নামে বাড়ি বা কক্ষ ভাড়া নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের একই সময়ে ও একই কক্ষে পাঠদান করেন। এতে শিক্ষকের অনুপস্থিতিতে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, কিছু শিক্ষক প্রকৃত শিক্ষাদানের চেয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের একত্রিত করে বিভিন্ন অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে শিক্ষক উপস্থিত না থাকলেও ছাত্র-ছাত্রীদের কোনো আপত্তি থাকে না। ফলে অভিভাবকেরা মনে করেন সন্তানরা প্রাইভেট পড়ছে, অথচ তারা অন্য কাজে সময় ব্যয় করছে। এতে একদিকে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রেম, প্রতারণা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার দুটি সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে কিছু শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে না গিয়ে বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, একটি বিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রী মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিভিন্ন সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিভাবকেরা বিষয়টি কাউখালী থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের সতর্ক করে।
এ বিষয়ে কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, “মাদক, ইভটিজিং ও প্রতারণার মতো কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, সে যতই প্রভাবশালী হোক না কেন।” তিনি জানান, স্কুল চলাকালীন সময়ে সাদা পোশাক ও ইউনিফর্মে পুলিশের বিশেষ টহল অব্যাহত রয়েছে।
ওসি আরও বলেন, “মোবাইল ফোনে মেয়েরা ছেলেদের ফোন দিচ্ছে—এমন মৌখিক অভিযোগ পেয়েছিলাম। বিষয়টি তদন্ত করে অভিভাবকদের সতর্ক করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত রোমান্স স্ক্যামের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি সকল অভিভাবককে সন্তানদের প্রতি নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না দেওয়ার পরামর্শ দেন।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.