প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ৬, ২০২৬, ৫:১৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ৬, ২০২৬, ২:৪০ পি.এম
দক্ষিণাঞ্চলে কৃষি উপকরণ বিপণনে কঠোর তদারকির দাবি

রায়হান শেখ, মোল্লাহাট, বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি কৃষি। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সরকার সার, বীজ ও বালাইনাশক সরবরাহ ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, মাঠপর্যায়ে এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা আরও বাড়াতে নিয়মিত তদারকি, মান নিয়ন্ত্রণ এবং দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার কৃষক, কৃষি উপকরণ বিক্রেতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কৃষি উপকরণ বিক্রির সঙ্গে জড়িত অনেকের পর্যাপ্ত কারিগরি প্রশিক্ষণ নেই বলে কৃষকদের একটি অংশ মনে করেন। তাদের ভাষ্য, অনেক সময় কৃষকের বর্ণনার ভিত্তিতে পরামর্শ দেওয়া হয়, যা সব ক্ষেত্রে কার্যকর নাও হতে পারে। ফলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং কাঙ্ক্ষিত ফলন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
অন্যদিকে কৃষি উপকরণ ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা অনুমোদিত কোম্পানির পণ্য বিক্রি করেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কৃষকদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন। তারা আরও বলেন, নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা পেলে সেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি উপকরণ বিক্রির জন্য প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে দক্ষতা মূল্যায়ন এবং যোগ্য ব্যক্তিদের লাইসেন্স প্রদান করা হলে কৃষকরা আরও নির্ভরযোগ্য সেবা পাবেন। এতে ভুল পরামর্শের ঝুঁকি কমবে এবং কৃষি উৎপাদনও ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত হবে।
কৃষকদের একটি অংশের অভিযোগ, বাজারে নিম্নমানের বা কাঙ্ক্ষিত মানের নয়—এমন বীজ, সার ও বালাইনাশক পাওয়া যায় বলে তাদের সন্দেহ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট সরকারি পরীক্ষাগার ও তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত বাজার পরিদর্শন, নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ, মেয়াদ ও মান যাচাই এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে কৃষকদের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, নিরাপদ বালাই ব্যবস্থাপনা ও সঠিক কৃষি উপকরণ ব্যবহারে আরও প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন।
সরকার ইতোমধ্যে কৃষি উপকরণের সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং অনিয়ম প্রতিরোধে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, মাঠপর্যায়ে তদারকি আরও জোরদার হলে এসব উদ্যোগের সুফল কৃষকদের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছাবে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের অভিমত, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তি। তাই কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষা, মানসম্মত কৃষি উপকরণ নিশ্চিতকরণ, দক্ষ বিক্রেতা তৈরি এবং স্বচ্ছ বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সময়ের দাবি। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা সুদৃঢ়করণ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.