প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ৬, ২০২৬, ৪:৫১ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ৬, ২০২৬, ১২:৩৭ পি.এম
উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ও কক্সবাজারে পৃথক পাহাড় ধ্বসে নারী শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু

মোহাম্মদ খোরশেদ হেলালী, কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ভারী বর্ষণে পৃথক তিনটি ভয়াবহ পাহাড় ধ্বসের ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৯ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় অন্তত আহত হয়েছে আরো ১০ জন। উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা মুষলধারে প্রবল বর্ষণে পৃথক তিনটি ভয়াবহ পাহাড় ধ্বসের ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৯ জন নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় অন্তত আহত হয়েছে আরো ১০ জন।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন ম্যানেজার ডলার ত্রিপুরা জানান খবর পেয়ে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার ও আহতদেরকে ক্যাম্প প্রশাসনের সহযোগিতায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে উখিয়ার ১৫ নং জামতলী ক্যাম্প, ৭ নং টিভি টাওয়ার ক্যাম্প ও ১১ নং বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঘটে এসব দুর্ঘটনা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, এপিবিএন পুলিশ , ক্যাম্প প্রশাসন ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা রাতভর চালায় উদ্ধার অভিযান।
ক্যাম্পের মাঝি আবদুস ছালাম জানান, উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রাত সাড়ে ৩টার দিকে ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড়ধসের ঘটনায় একই পরিবারের ৪জন প্রাণ হারান। আহত হন আরও একজন।
নিহতরা হলেন উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং তার ছোট ভাই হারুনুর রশিদ (৩)। একই সময় রাতে ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে আশ্রিত মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর ধসে পড়ে পাহাড়ের বিশাল অংশ। মুহূর্তেই মাটির নিচে চাপা পড়ে যায় পুরো ঘর। উদ্ধারকারীরা ঘরের ভেতর থেকে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং ৪ বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাসের মরদেহ উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার সময় ঘরটিতে অবস্থান করছিলেন পরিবারের ১০ সদস্য। আহত এক কিশোরীকে উদ্ধার করে পাঠানো হয়েছে হাসপাতালে। পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রাণে বেঁচে গেলেও তাদের অনেকেই হয়েছেন গুরুতর আহত।
রাত ২ টার দিকে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর টিভি খাবার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ছেলে সে।ক্যাম্পের শেড মাঝি হাফিজ আহম্মদ জানিয়েছেন, পাহাড়ধসের পর রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা উদ্ধার করেন শিশুটির মরদেহ।
১৪ এপিএন পুলিশের অধিনায়ক পুলিশ সুপার রিয়াজ উদ্দিন আহমদ জানান, নিহতদের মরদাহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে এবং আহতদেরকে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি আরো জানান , টানা প্রবল বর্ষণে ও পাহাড় ধ্বসের ঘটনায় প্রায় অর্ধশত পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।
এদিকে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত ঝুঁকিপূর্ণ রোহিঙ্গা পরিবারগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে আনার জন্য স্বেচ্ছাসেবক সিপিপি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ক্যাম্প প্রশাসন।
রোহিঙ্গারা জানান, বর্ষা এলেই তাদের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে ওঠে পাহাড়ধস। পাহাড় কেটে তৈরি করা ঢালে বাঁশ, ত্রিপল ও মাটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা হাজারো ঘর ভারী বৃষ্টিতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সামান্য ধসও মুহূর্তেই কেড়ে নিতে পারে বহু প্রাণ।অন্য দিকে কক্সবাজার এর পাহাড় তলীতে পাহাড় ধসের এক জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার জানান ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি অনেক বেড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করে সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে। জীবন রক্ষায় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।’
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.