
এম.এ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধি:
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের নামে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে কলেজের কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওনকে গ্রেপ্তার করেছে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত সাব্বির হোসেন শাওন কলেজের ৬ জন এইচএসসি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে পরীক্ষার ফরম পূরণের কথা বলে নির্ধারিত ফি ও অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করেন। শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও টাকা জমা দিলেও তিনি তাদের ফরম পূরণ না করেই অর্থ আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
বিষয়টি দীর্ঘদিন গোপন থাকায় শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে থাকে। কিন্তু নির্ধারিত পরীক্ষার দিন কেন্দ্রে গিয়ে তারা জানতে পারে, তাদের কারও ফরমই পূরণ করা হয়নি। আকস্মিক এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ হারিয়ে হতবাক হয়ে পড়েন ভুক্তভোগীরা। অনেকেই পরীক্ষাকেন্দ্রেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। শিক্ষার্থীদের পরিবারও এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত সাব্বির হোসেন শাওন এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পলাতক শাওনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান শাহিন জানান, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন নিয়ে প্রতারণা এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাব্বির হোসেন শাওনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্তে আরও কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম ও প্রতারণা শুধু শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে না, বরং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা নষ্ট করে। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।