
লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় হাসান মাহমুদ ও সাজু ইসলাম নামে দুই সাংবাদিককে মারধর করে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার ডাক বাংলো এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত সাংবাদিক হাসান মাহমুদ দৈনিক কালের কন্ঠ এবং এনটিভির উপজেলা প্রতিনিধি এবং সাজু ইসলাম দৈনিক বিজনেস বাংলাদেশের হাতীবান্ধা উপজেলা প্রতিনিধি। অভিযুক্ত আবু হারেজ হাসু উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের লাল চাঁনের ছেলে। এছাড়া তিনি জামায়াতে ইসলামীর সক্রীয় কর্মী বলে জানা গেছে।
তথ্যসুত্রে জানা গেছে, সরকারী ডাক বাংলোর জমি দখল ও চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে ৪তলা পাকা বাড়ি নির্মান শুরু করেন ঐ এলাকার আজগর আলী মনা। এতে বাঁধা দেয় স্থানীয়রা কিন্তু তারা বাঁধা উপেক্ষা করে বাড়ির কাজ করতে থাকে। এমন অবস্থায় স্থানীয়রা হাতীবান্ধার ইউএনওসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করেন। এরেই প্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার তদন্ত করতে আসেন টংভাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের লোকজন। এ সময় তাদের সাথে ঘটনাস্থলে হাসান মাহমুদ ও সাজু ইসলাম নামে দুই সাংবাদিক। আর এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অতর্কিতভাবে সাংবাদিকদের উপর হামলা করে মোবাইল ছিনিয়ে নেয় মনার স্ত্রী গোলাপী তার ভাগিনা হাসু। পরে স্থানীয়রা সাংবাদিক হাসান মাহমুদ ও সাজু ইসলামকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ভাইরাল হওয়া অডিওতে আবু হারেজ হাসুকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে শোনা যায়। সেখানে তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আবারও সংবাদ প্রকাশ করা হলে নারী দিয়ে মারধর করিয়ে উল্টো মামলা দেওয়া হবে। এ হুমকির পরই সাংবাদিক সাজু চৌধুরীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগকারীদের দাবি, ভাইরাল কল রেকর্ডে হামলার পূর্বপরিকল্পনার প্রাথমিক ইঙ্গিত মিলেছে।
এ বিষয়ে আহত সাংবাদিক সাজু ইসলাম বলেন, হাসু ও তার লোকজন অতর্কিতভাবে আমাদের উপর হামলা করেছে, থানায় অভিযোগ করেছি। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। এ বিষয়ে সাংবাদিক হাসান মাহমুদ বলেন, হাসু ও তার লোকজন অতর্কিতভাবে আমাদের উপর হামলা করেছে। আমার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে। এখন পর্যন্ত ফোন উদ্ধার হয় নি।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইলিয়াস বসুনিয়া পবন বলেন, আমাদের দুই সাংবাদিককে মারধর করে মোবাইল ছিনতাই করে নিয়েছে। থানায় অভিযোগ করা হয়েছে যদি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয় তাহলে আমরা কর্মসুচি দিতে বাধ্য হবো।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলী বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপ জন মিত্র বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমি টংভাঙ্গা ইউনিয়নের সহকারী ভূমি অফিসারকে তদন্তের জন্য নির্দেশ দেই। নির্দেশমতো কর্মকর্তারা তদন্তের জন্য সেখানে যাওয়ার পর অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। সাংবাদিকদের পাশাপাশি আমার সহকর্মীরাও সেখানে নিরাপত্তা সংকটে ছিলেন। এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহবান জানান তিনি।

আরও পড়ুন
বগুড়া-রংপুর ডিএনসির যৌথ অভিযানে ১২ হাজার পিস ইয়াবাসহ ‘বুদা’ গ্রেপ্তার
মোল্লাহাটে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্বোধন
সিরাজগঞ্জে জার্মান প্রবাসীকে মারপিট, জোরপূর্বক কৃষি জমি দখল করে মাটি ভরাট