
শরিফ উদ্দিন বাবু, শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুর জেলার উচ্চশিক্ষার অন্যতম প্রধান ও ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ শেরপুর সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠার ছয় দশক পার করলেও এখনো আধুনিক অবকাঠামোগত সুবিধার অপেক্ষায় রয়েছে। ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে জেলার উচ্চশিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসলেও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ডিগ্রি, অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থী এখানে অধ্যয়ন করছে। শুধু শেরপুর জেলার পাঁচটি উপজেলা নয়, জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ, কুড়িগ্রামের রাজিবপুর ও রৌমারী এবং ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকেও শিক্ষার্থীরা এই কলেজে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য আসেন। কিন্তু বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর তুলনায় আধুনিক অবকাঠামো ও শিক্ষা সহায়ক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, কলেজের প্রধান প্রশাসনিক ভবন, অফিস কক্ষ, শিক্ষক মিলনায়তন এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শ্রেণিকক্ষ এখনো জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ার কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদান ব্যাহত হয়। অন্যদিকে গ্রীষ্মকালে টিনশেড ভবনের ভেতরে তীব্র গরমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষণও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
এছাড়াও কলেজটিতে একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম, ছাত্র সংসদ ভবন, পর্যাপ্ত একাডেমিক ভবন এবং আধুনিক শিক্ষাবান্ধব অবকাঠামোর অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব সীমাবদ্ধতা কলেজের সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম ও মানোন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কলেজের অনার্স শিক্ষার্থী মো. জসিম মিয়া বলেন, “গরমের সময় টিনশেড ক্লাসরুমে বসে ক্লাস করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। আবার বৃষ্টি হলে ছাদ থেকে পানি পড়ে। একটি সরকারি কলেজে এমন পরিবেশে পড়াশোনা করা সত্যিই হতাশাজনক।”
শেরপুর সরকারি কলেজ সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শরিফ উদ্দিন বাবু বলেন, “জেলার একমাত্র সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।”
কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আক্রাম হোছাইন বলেন, “প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কলেজের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমের একটি বড় অংশ টিনশেড ভবনে পরিচালিত হয়ে আসছে। জেলার একমাত্র সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হয়েও আমাদের এই অবস্থা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।”
কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুর রউফ জানান, আধুনিক প্রশাসনিক ভবন, অডিটোরিয়াম, ছাত্র সংসদ ভবন এবং ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কলেজের শিক্ষার পরিবেশ ও মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।