জেএম. মমিন, বোরহানউদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি
ভোলার বোরহানউদ্দিনে ১০ বছর আগে যাতায়াতের সুবিধার্থে খালের উপর ব্রিজ নির্মাণ করা হলেও ব্রিজের উভয় পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় স্থানীয়দের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। চলাচল করতে পারছে না কোনো ধরনের যানবাহন। তাই নিজেদের উদ্যোগে ব্রিজের অপর পাশ দিয়ে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছেন। এতে ওই এলাকার দুইটি গ্রামের হাজারো নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী ও বয়স্ক মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বর্ষা মৌসুমে এ দুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের উদয়পুর ও বাটামারা দুই গ্রাম সহ আশপাশের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে ৪নং ওয়ার্ডস্থ নওয়াব মিয়ার খালের উপর উদয়পুর নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে খালের ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে দৃর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সেতু কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প (এলজিইডি) এর আওতায় ২৯ লক্ষ ৫৭ হাজার ৮৬৭ টাকায় ৩৬ ফুট লম্বা উক্ত ব্রিজটি নির্মাণ করে। কিন্তু নির্মাণের পর এখনো পর্যন্ত ব্রিজের দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক তৈরি করা হয়নি। তাই শুকনো মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও বর্ষায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে। সংযোগ সড়কের স্থানে গভীর খাদ ও বর্ষার মৌসুমে পানি জমে থাকায় ব্রীজটি দিয়ে পাড় হওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পরে গ্রামবাসীরা তাদের নিজেদের উদ্যোগে ব্রিজের থেকে একটু দূরে দিয়ে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে চলাচলের ব্যবস্থা করেন।
বাটামারা গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মাদ আলী, সোহাগ হোসাইন সহ আরো অনেকে জানান, সংযোগ সড়ক না থাকায় তাঁরা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। এতে গাড়ী চলাচল না করায় গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু ও শিক্ষার্থীদের চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে যায়। তারা আরো জানান, শুকনো মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
উদয়পুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, বাটামারা গ্রামে থেকে অনেক শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসে, কিন্তু যাতায়াত সংযোগ সড়ক না থাকায় বর্ষার মৌসুমে তাদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা প্রকৌশলী মাইদুল ইসলাম জানান, ব্রিজটির সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য ‘স্বল্প ব্যয় গ্রামীণ সড়ক, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পে’ অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে টেন্ডারের মাধ্যমে সংযোগ সড়ক ও সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।