হোম » সারাদেশ » বাঘার তিন শিক্ষার্থীর উদ্ভাবনে চমক: স্মার্ট প্রিন্টিং মেশিন নিয়ে ২৮ জুন জাতীয় মঞ্চে লড়বে শাহদৌলা কলেজের এনামুল-আকাশ-মাহি

বাঘার তিন শিক্ষার্থীর উদ্ভাবনে চমক: স্মার্ট প্রিন্টিং মেশিন নিয়ে ২৮ জুন জাতীয় মঞ্চে লড়বে শাহদৌলা কলেজের এনামুল-আকাশ-মাহি

আবুল হাশেম 
মাঠের কাদা মাখা বাবার ঘাম ঝরানো টাকায় কেনা খাতা-কলম দিয়েই স্বপ্ন আঁকলো দুই কৃষকের ছেলে ও এক ব্যবসায়ীর সন্তান। সেই স্বপ্নই এবার বাঘা উপজেলা ও রাজশাহী জেলা পেরিয়ে জাতীয় মঞ্চে লড়তে যাচ্ছে। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার শাহদৌলা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এনামুল হক, আকাশ আহমেদ ও ইয়াসির ইকবাল মাহি তাদের উদ্ভাবিত ‘স্মার্ট প্রিন্টিং ভেন্ডিং মেশিন এবং ডিজিটাল এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ প্রজেক্ট নিয়ে আগামী ২৮ জুন শনিবার ঢাকায় অনুষ্ঠেয় জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।
‘স্টার্ট আপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’-এ তারা বাঘা উপজেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করে। এরপর গত রোববার ১৪ জুন রাজশাহী রিভার ভিউ কালেক্টরেট স্কুলে জেলা শিক্ষা অফিসের আয়োজনে রাজশাহী জেলার ৯টি উপজেলাকে পেছনে ফেলে জেলা পর্যায়েও প্রথম হয়।
জেলা পর্যায়ে বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা পর্যায়ে বাছাই ও বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব জায়েদুর রহমান। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষাগত উৎকর্ষ সহায়তা স্কিম, এসইডিপি প্রকল্পের আওতায়।
তত্ত্বাবধানে থাকা কলেজের শিক্ষক মতিউর রহমান ও আব্দুল হানিফ মিয়া জানান, শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রজেক্ট দুটি হলো:
বিকাশ/নগদে পেমেন্ট করে শিক্ষার্থীরা মাত্র ১০ সেকেন্ডে অ্যাসাইনমেন্ট, ফরম প্রিন্ট করতে পারবে। এতে গ্রামের স্কুলের প্রিন্টিং ঝামেলা থাকবে না।
 শিক্ষার্থীর হাজিরা, রেজাল্ট, বেতন, অভিভাবকের এসএমএস – সব এক অ্যাপেই। এতে শিক্ষকদের কাগজের খাতা-কলমের কাজ ৮০% কমে যাবে।
এই তিন স্বপ্নবাজ হলেন দুই প্রান্তিক কৃষকের ছেলে এনামুল হক ও আকাশ আহমেদ এবং একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ছেলে ইয়াসির ইকবাল মাহি। তিনজনই শাহদৌলা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। শিক্ষার্থীরা বলেন, “২৮ জুন আমাদের স্বপ্নপূরণের দিন। আমরা বাঘার ছেলে। ঢাকায় গিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাবা-মা, শিক্ষক ও বাঘাবাসীর মুখ উজ্জ্বল করবো ইনশাআল্লাহ।”
তাদের বাবারা বলেন, “২৮ তারিখের জন্য দিন গুনছি। ছেলেকে পড়াতে গিয়ে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। যদি জাতীয় পর্যায়ে জেতে, সব কষ্ট সার্থক হবে।” শিক্ষক মতিউর রহমান ও আব্দুল হানিফ বলেন, “জাতীয় পর্যায়ের জন্য এখন রাত-দিন প্রস্তুতি চলছে। ২৮ তারিখ ঢাকায় ওদের আত্মবিশ্বাসই মূল অস্ত্র।”
রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিসার জায়েদুর রহমান বলেন, “দুই কৃষকের ছেলে আর এক ব্যবসায়ীর ছেলে মিলে যা দেখালো, তা বিস্ময়কর। ২৮ জুন ঢাকার জাতীয় মঞ্চে ওরা রাজশাহীর প্রতিনিধিত্ব করবে। আমার বিশ্বাস, ওরা চ্যাম্পিয়ন হয়েই ফিরবে।”
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “২৮ জুন ঢাকার মঞ্চে বাঘার মাটির গন্ধ নিয়ে দাঁড়াবে তার কলেজের তিন শিক্ষার্থী। বাঘাবাসীর দোয়া এখন ওদের সাথেই।” বাঘা উপজেলা নির্বাহি অফিসার শাম্মী আক্তার বলেন, জাতীয় পর্যায়ে বাঘার শিক্ষার্থীদের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করবে উপজেলা প্রশাসন। রাজশাহী-৬ চারঘাট-বাঘা আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদও উচ্চ পর্যায়ে সার্বিক সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!