প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১৬, ২০২৬, ৫:৩৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ১৬, ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ
কাউখালীতে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবা-মাকে রেখে চলে গেলেন দিনমজুর রবিউল” মানবেতর জীবনযাপন পরিবারের

কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
একটি দুর্ঘটনা বদলে দিয়েছে একটি পরিবারের পুরো জীবন। মাত্র পাঁচ মাস আগে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার কেউন্দিয়া গ্রামের সোলাইমান হাওলাদের মেয়ে খাদিজা বেগমের সঙ্গে একই উপজেলার বাঁশুরী গ্রামের মহিদুলের দিনমজুর ছেলে রবিউলের সাথে বিয়ে হয়। সুখ-স্বপ্নে ভরা নতুন সংসারে শিগগিরই নতুন অতিথি আসার অপেক্ষা ছিল। কিন্তু নির্মম এক দুর্ঘটনায় সেই স্বপ্ন আজ পরিণত হয়েছে সীমাহীন কান্নায়।
রবিউল জীবিকার তাগিদে কাউখালী বাজারের বিভিন্ন দোকান ও আড়তে মালামাল ওঠানো-নামানোর কাজ করতেন। কঠোর পরিশ্রম করেই চলছিল সংসার। এরই মধ্যে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হন তার স্ত্রী খাদিজা। অনাগত সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আরও বেশি পরিশ্রম শুরু করেন রবিউল। রবিউলের বাবা
জানান গত ৪ মে, সোমবার কাউখালী হাটের দিনে চিরাপাড়া নদীর ট্রলার থেকে মালামাল নামানোর সময় ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মালভর্তি ভারী বস্তা কাঁধে নিয়ে ওঠার সময় হঠাৎ ট্রলারের সিঁড়ি ভেঙে পড়ে যায়। সিঁড়ি ও ভারী বস্তার চাপায় গুরুতর আহত হন রবিউল। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান, তার ঘাড় ভেঙে গেছে।
পরে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়া হলেও সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে না পেরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, তিন দিনের চিকিৎসা শেষে ৯ মে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক লাখ টাকার বিল পরিশোধের পর তার মৃত্যুর খবর জানায়। ছেলের চিকিৎসার জন্য ধারদেনা ও সম্পদ বিক্রি করে বিল পরিশোধ করতে হয় অসহায় পরিবারটিকে।
রবিউলের মৃত্যুর পর চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী খাদিজা, বৃদ্ধ বাবা-মা ও পুরো পরিবার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন তাদের সংসারে নেমে এসেছে চরম অভাব-অনটন। শোকাহত খাদিজা কখনো অঝোরে কাঁদছেন, আবার কখনো নির্বাক হয়ে থাকছেন।
রবিউলের বাবা মহিদুল জানান, “আমার ছেলে কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় মারা গেছে। এখন অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূ আর অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি দিশেহারা। তাদের দুবেলা খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।”
তিনি সরকার, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়ে বলেন, “আমার অনাগত নাতি এবং পুত্রবধূকে বাঁচিয়ে রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.