প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১৩, ২০২৬, ১০:৪৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ১৩, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
কাউখালীর সন্ধ্যা নদীর ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে তিন স্থানে জিও ব্যাগ ফেলার উদ্বোধন

কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সন্ধ্যা নদীর তীরবর্তী সোনাকুর ফেরিঘাট, গন্তব্য ও হরিণধারা এলাকায় নদীভাঙন রোধে জরুরি প্রতিরক্ষা কাজের অংশ হিসেবে জিও ব্যাগ ফেলার কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুর ১২টায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজুর।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান, পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর মো. রাশেদ খান, এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হাসান লিকসন, সাংগঠনিক সম্পাদক লিয়াকাত হোসেন তালুকদার, রফিকুল ইসলাম রফিক,স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক জাহিদুর রহমান ফিরোজ , সদস্য সচিব রাকিব তালুকদার সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় নদীভাঙন কবলিত এলাকার শত শত মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়ন কাজ শুরু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম তীরের তিনটি স্পটে মোট ২৬০ মিটার এলাকাজুড়ে জিও ব্যাগ স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৪ লাখ টাকা। কাজ সম্পন্ন হলে ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা ফেরিঘাট, খেয়াঘাট, বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর বলেন, “সন্ধ্যা নদীর ভাঙন দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এলাকাবাসীর দাবি ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে এই প্রতিরক্ষা কাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “নদীভাঙনের কারণে স্থানীয় জনগণ দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো সুরক্ষিত হবে। উপজেলা প্রশাসন কাজের অগ্রগতি ও মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে।”
পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর মো. রাশেদ খান বলেন, “জরুরি প্রতিরক্ষা কাজের আওতায় তিনটি স্পটে জিও ব্যাগ স্থাপন করা হবে। নদীর স্রোত ও ভাঙনের প্রবণতা বিবেচনায় নিয়ে কারিগরি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীভাঙনের কারণে তাঁদের অনেকের বাড়িঘর ঝুঁকির মুখে পড়েছে। প্রতিরক্ষা কাজটি দ্রুত সম্পন্ন হলে বহু পরিবার নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।
উল্লেখ্য, কাউখালীর সন্ধ্যা নদীর তীরবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র নদীভাঙন অব্যাহত থাকায় স্থানীয় জনগণ কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মাননীয় প্রতিমন্ত্রী নদী ভাঙ্গনের ক্ষতির বিষয়টি উপলব্ধি করে জরুরী ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করার ব্যবস্থা করেন। যার ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.