
রবিউল হাসান লায়ন , জামালপুর
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার রামরামপুর সীমান্তে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের (অনুপ্রবেশ) চেষ্টাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় এলাকাবাসী সীমান্ত এলাকায় শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান মেলেনি।
এদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। ভিডিওতে দেখা যায়, পুশইনের চেষ্টা ঠেকাতে গিয়ে বিএসএফ ও বিজিবি সদস্যদের মধ্যে তীব্র তর্ক-বিতর্ক হচ্ছে। সেখানে বিএসএফের এক সদস্যকে লক্ষ্য করে এক বিজিবি সদস্যকে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে শোনা যায়, "আপনি গুলি চালানোর কথা কেন বললেন? আপনি গুলি চালালে আমি কি বসে থাকব? আপনার কাছে গুলি আছে, আমার কাছে নেই?" বিজিবির এমন সাহসী ও অনমনীয় অবস্থানের ভিডিওটি সামাজিকমাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছে।
স্থানীয় ও বিজিবি সূত্র জানায়, বুধবার (১০ জুন) ভোর আনুমানিক পাঁচটার দিকে রামরামপুর সীমান্ত দিয়ে আনুমানিক ৬০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত বৃদ্ধকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় ভারতের নন্দীরচর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে টের পেয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন জামালপুর ৩৫ বিজিবির জওয়ানরা। একই সঙ্গে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তের কয়েকটি গ্রামের শত শত বাসিন্দা লাঠিসোঁটা নিয়ে বিজিবির সঙ্গে যুক্ত হয়ে শক্ত অবস্থান নেন।
বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে ওই বৃদ্ধ সীমান্ত রেখার শূন্য লাইনে (নো ম্যান্স ল্যান্ড) আটকা পড়েন। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সীমান্ত জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সকাল ১০টায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে জরুরি ব্যাটালিয়ন পর্যায়ের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
জামালপুর ৩৫ বিজিবির সহকারী পরিচালক এবং ভারতের নন্দীরচর বিএসএফ ক্যাম্পের পরিদর্শকের নেতৃত্বে আধা ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক চলে। তবে বৈঠকে ভারতের বিএসএফ ওই বৃদ্ধকে তাদের নাগরিক হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং তাকে নো ম্যান্স ল্যান্ডে রেখেই চলে যায়। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠক।
পতাকা বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় সীমান্ত জুড়ে নতুন করে থমথমে পরিস্থিতি ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিএসএফ সদস্যরা দফায় দফায় ওই বৃদ্ধকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলেও বিজিবি ও স্থানীয়দের কঠোর নজরদারির কারণে তা ব্যর্থ হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিএসএফ এক ব্যক্তিকে শূন্য রেখায় ঠেলে পাঠালেও যেকোনো মূল্যে পুশইনের অপচেষ্টা রুখে দিতে তারা বদ্ধপরিকর। সীমান্ত সুরক্ষায় এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।