প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ১১:৩৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
কাউখালী পাইলট হাউসে সংস্কারের নামে অনিয়মের অভিযোগ

কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের কাউখালী পাইলট হাউসে সংস্কার কাজের নামে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, নিম্নমানের কাজ করে সরকারি অর্থ অপচয় করা হচ্ছে এবং নতুন টিউবওয়েল স্থাপনের পরিবর্তে পুরোনো টিউবওয়েলে সংযোগ দিয়ে বিল উত্তোলনের পাঁয়তারা চলছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাংলার সুয়েজ খালখ্যাত গাবখান চ্যানেলে নিরাপদ নৌযান চলাচল নিশ্চিত করতে কয়েক যুগ আগে কাউখালীতে পাইলট হাউস স্থাপন করা হয়। এখান থেকে নৌ-সিগন্যাল পাঠিয়ে গাবখান চ্যানেলে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পাইলটরা এই হাউসে অবস্থান করেন এবং বিভিন্ন জাহাজে যাতায়াতের জন্য এটি ব্যবহার করেন।
দীর্ঘদিনের ব্যবহারে পাইলট হাউসের নিরাপত্তা প্রাচীরের কিছু অংশ ভেঙে পড়ে এবং আবাসিক কক্ষগুলোর রং ও প্লাস্টার নষ্ট হয়ে যায়। এ অবস্থায় বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে সংস্কার কাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, কাজের বাস্তবায়নকারী ঠিকাদার মোহাম্মদ শাহ আলম সংস্কার কাজে চরম অবহেলা করেছেন। ভবনের দরজা-জানালা নামমাত্র মেরামত করা হয়েছে। যেসব স্থানে প্লাস্টার নষ্ট ছিল, সেগুলো পুনর্নির্মাণ না করে পুরোনো দেয়ালের ওপর সরাসরি রং করে কাজ শেষ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
এছাড়া বিশুদ্ধ পানির জন্য একটি গভীর নলকূপ স্থাপন ও আধুনিক মোটরের মাধ্যমে পানি সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে নতুন নলকূপ ব্যবহার না করে পুরোনো টিউবওয়েলের সঙ্গে সংযোগ দিয়ে পানি সরবরাহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে পাইলট হাউসের সামনের দিকে একটি স্থাপনা নির্মাণ করে সেখানে নতুন গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে দেখিয়ে কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
এ বিষয়ে ঠিকাদার মোহাম্মদ শাহ আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। আমার মিস্ত্রিরা কাজ করছেন।” তিনি আরও দাবি করেন, বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজ পরিদর্শন করেছেন এবং পুরোনো টিউবওয়েলের সঙ্গে সংযোগ দিয়ে পানি সরবরাহের নির্দেশনা দিয়েছেন।
বিআইডব্লিউটিএর সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসান আহমেদ বলেন, “নতুন টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছিল। তবে সেখানকার পানি দুর্গন্ধযুক্ত ও লবণাক্ত হওয়ায় পুরোনো টিউবওয়েল ব্যবহার করা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন বলেন, “নতুন টিউবওয়েল বসানো হয়েছিল, কিন্তু পানির মান ভালো না হওয়ায় পুরোনো টিউবওয়েলের সঙ্গে সংযোগ দিতে বলা হয়েছে। নতুন করে উপযুক্ত টিউবওয়েল স্থাপন করা হলে তবেই বিল পরিশোধ করা হবে।” কাজের মান নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হবে। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন গ্রিন ফোর্স বাংলাদেশ, কাউখালী উপজেলা শাখার উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম বলেন, “সরকারি প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি মেনে নেওয়া যায় না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।”
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান বলেন, “সংস্কার কাজে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জানানো হবে।”
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.