প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ২৬, ২০২৬, ৪:০২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ৩, ২০২৬, ৫:৪৮ পি.এম
জাল দলিলে জমি নামজারি, ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় অন্যের ছবি ও ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে জাল দলিলের মাধ্যমে এক ব্যক্তির পৈত্রিক বসতবাড়িসহ জমি অবৈধভাবে নামজারি (মিউটেশন) করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওই অবৈধ নামজারি বাতিল করেছেন।
এদিকে জমি জালিয়াতির এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। বুধবার (৩ জুন) সকাল ১১টায় আলফাডাঙ্গা সদর বাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে এই জালিয়াতির বিবরণ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে শহিদুল ইসলাম জানান, প্রায় দুই মাস আগে তার পিতা মো. অলিয়ার রহমান মালিকানাধীন ৩ শতাংশ জমি তাকে দানপত্র দলিলের মাধ্যমে লিখে দেন। গত ৬ মে তিনি ওই জমির নামজারির জন্য আবেদন করেন। গত ১৩ মে শুনানির তারিখ নির্ধারিত ছিল।
পরবর্তীতে ভূমি অফিসে খোঁজ নিতে গিয়ে শহিদুল জানতে পারেন, তার আবেদনকৃত জমি এবং পৈত্রিক বসত বাড়িটি ইতিমধ্যে ‘শাম কাজী’ নামে অন্য এক ব্যক্তির নামে নামজারি হয়ে গেছে। ভূমি অফিস জানায়, শাম কাজী ২০০৮ সালের একটি ৭৯১ নম্বর দলিলের ভিত্তিতে এই নামজারি করিয়েছেন; যেখানে শহিদুলের পিতাকে দাতা সাজানো হয়েছে। কিন্তু কম্পিউটারে দলিলের কপিতে ব্যবহৃত ছবি ও স্বাক্ষর তার পিতার নয় বলে শহিদুল নিশ্চিত হন।
ভূমি অফিসের তথ্যে সন্দেহ হলে ভুক্তভোগী তাৎক্ষণিকভাবে আলফাডাঙ্গা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে ২০০৮ সালের ওই ৭৯১ নম্বর মূল দলিলটি তল্লাশি করেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, মূল দলিলে দাতা হিসেবে কেবল মজিবর রহমান ও শামেলা বেগমের নাম রয়েছে, সেখানে অলিয়ার রহমানের কোনো নাম বা তথ্য নেই। অর্থাৎ ভূমি অফিসে সম্পূর্ণ ভুয়া ও এডিট করা একটি জাল দলিল উপস্থাপন করে নামজারিটি বাগিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে শহিদুল ইসলাম আলফাডাঙ্গা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয়কে অবহিত করলে তিনি দলিলপত্র যাচাই-বাছাই করে জালিয়াতির সত্যতা পান এবং শাম কাজীর নামে হওয়া অবৈধ নামজারিটি বাতিল করে দেন। তবে নামজারি বাতিল হলেও মূল অপরাধী এখনো অধরা থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। সংবাদ সম্মেলন থেকে তারা জাল দলিল তৈরি ও ব্যবহারকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাম কাজীর বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে আলফাডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কে এম রায়হানুর রহমান বলেন, "জমির দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে নামজারি করায় তা বাতিল করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই জালিয়াতির সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।"
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.