
সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
ঢাকার সাভার থানাধীন বিরুলিয়া পোস্ট অফিস সংলগ্ন ভাগ্নি বাড়ি এলাকায় সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলার একটি গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, গত কয়েকদিন পূর্বে স্থানীয়ভাবে পরিচিত সন্ত্রাসী মহসিন হাসান, ওয়াসিম, জসিমসহ আনুমানিক ২৫-৩০ জনের একটি দল পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র, জিআই পাইপ ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ ব্যাপারে ভূক্তভোগী আবু সাঈদ বাদি হয়ে সাভার মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক ব্যবসা ও নানা অপকর্ম পরিচালনা করে আসছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, হামলাকারীরা আকস্মিকভাবে বাড়িতে প্রবেশ করে নারী, শিশু ও শিক্ষার্থীসহ পরিবারের সদস্যদের উপর নির্বিচারে হামলা চালায়। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে সবাইকে জিআই পাইপ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক মারধর করে মাটিতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। হামলার সময় বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পৌঁছে যাওয়ায় আরও বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। পরে পুলিশ ভুক্তভোগীদের মামলা করার পরামর্শ দেয়।
হামলায় আহতদের মধ্যে চারজনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। চিকিৎসকদের মতে, জিআই পাইপ দিয়ে আঘাত করার ফলে তাদের মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছে এবং তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে নিতু, মিতু ও অন্তরা নামের কয়েকজন শিক্ষার্থী রয়েছে, যারা আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কথা। বর্তমানে তারা শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মেডিকেলে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়াও ঘটনায় শিশু সদস্যরাও আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পূর্বেও মাদক ব্যবসা, ইয়াবা ও ফেনসিডিল বাণিজ্য, পরিত্যক্ত ভবনে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। কয়েকদিন পূর্বে ক্যাম্প পুলিশের অভিযানে চারজনকে মাদক সেবনের সময় আটক করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। সেই অভিযানে ক্যাম্প ইনচার্জ আলামিন দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনার জের ধরেই পরবর্তীতে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়।
এছাড়াও এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্তদের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা চেয়ারম্যান ও অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে। বর্তমানে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং থানায় মামলা গ্রহণের বিষয়ে সহযোগিতা করেন। ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসন, দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। তারা বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে যেন ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবার এ ধরনের নৃশংস হামলার শিকার না হয়, সে জন্য দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।