বন্দর প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের দূযিত বর্জ্যে শীতলক্ষ্যা নদীর পানি পরিবেশ দূযন সহ দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারন করছে। উপজেলায় প্রতিষ্ঠি বিভিন্ন শিল্পকারখানার অপরিশোধিত রাসায়নিক বর্জ্য ও নগরীর পয়ঃনিষ্কাশনের ময়লা সরাসরি নদীতে পড়ায় মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে উঠেছে শীতলক্ষ্যা নদীর পানি। নদীর পানির রং কালো হয়ে যাওয়া এবং তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ স্থানীয় বাসিন্দারা। ড্রেন ও খাল দিয়ে এসব দূষিত পানি নদীতে মিশছে। এতে নদীর পানি কালো রং ধারণ করেছে এবং আশপাশে ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র দুর্গন্ধ। বিশেষ করে আহলিয়ার খালের দূষিত পানি ও বর্জ্যে শীতলক্ষ্যা নদীর পানি কালো ও গাধে পরিনত হচ্ছে। মদনপুর, কাচপুর, ধামগড়, মুছাপুর, বন্দর ও কলাগাছিয়া ইউনিয়নে গড়ে উঠা অনেক ডাইং ফ্যাক্টরী আছে যেখানকার ময়লা পানি সরাসরি শীতলক্ষ্যা নদীতে গিয়ে জমা হয়। শীতলক্ষ্যা নদীর পাশ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে অনেককেই নাকে হাত দিয়ে চেপে যেতে হয়। দূষণের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে বিভিন্ন পানিবাহীত রোগব্যাধি।
নাসিক ২৭নং ওয়ার্ড কুড়িপাড়া বাজার ব্যবসায়ী জামান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যার সমাধান না হওয়ায় দিন দিন শীতলক্ষ্যার পানি কালো আকার ধারণ করছে। তাছাড়া এলাকার লোকজন চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ উপ-পরিচালক এ এইচ এম রাশেদ জানান, দূষণকারী প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে শিল্প উদ্যোক্তাদের সচেতনতা ছাড়া এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়।বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিবানী সরকার জানান, পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন করে সেন্ট্রাল সুয়ারেজ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে নদী দূষণ অনেকাংশে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।তবে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া শীতলক্ষ্যা নদীকে রক্ষা করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে জরুরী কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পুরো বন্দরের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।