ইলিয়াছ শাহেদ গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি: রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের জিম্মি করে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করার এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রভাবশালী একটি শক্তিশালী চক্র সুপরিকল্পিতভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নাবালিকাদের এনে আটকে রেখে ‘বখরী’ হিসেবে ব্যবহার করছে—যা আধুনিক যুগে চরম অমানবিকতা ও দাসত্বের শামিল।অনুসন্ধানে জানা গেছে, পল্লীর ভেতরে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীর বাড়িতে এই অনৈতিক ব্যবসা চলছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের একটি তালিকা পাওয়া গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী মুকুল ও শিরীন: তাদের বাড়িতে সর্বোচ্চ ৪ জন করে কিশোরী বন্দি রয়েছে, ফেরদৌস, নূপুর ও কনক: প্রত্যেকের বাড়িতে ২ জন করে নাবালিকা রয়েছে। অন্যান্য: জুলি, ফয়জুদ্দিন, রুমা, সুমি, মুক্তা, হাসিনা, শান্ত, সোহাগ, ইতি, লাল বানু এবং সুমনের বাড়িতে ১ জন করে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে আটকে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এই কিশোরীদের ভালো কাজের প্রলোভন বা প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণার মাধ্যমে এখানে আনা হয়। পল্লীতে ঢোকানোর পর প্রথমেই তাদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়।
সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তাদের রাস্তায় দাঁড়িয়ে গ্রাহক ধরতে বাধ্য করা হয়। আয়ের সম্পূর্ণ টাকা চক্রটি হাতিয়ে নেয়, আর বিনিময়ে মেয়েদের কপালে জোটে নামমাত্র খাবার ও অবর্ণনীয় নির্যাতন। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী গ্রাহক না পেলে বা পালানোর চেষ্টা করলে তাদের ওপর চালানো হয় নৃশংস শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন।নাবালিকাদের এই অবৈধ অনুপ্রবেশের ফলে পল্লীর বয়স্ক ও বৈধভাবে থাকা নারীরাও বিপাকে পড়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নারী জানান, গ্রাহকেরা কম বয়সীদের দিকে ঝুঁকায় তাদের স্বাভাবিক আয় বন্ধ হয়ে গেছে। ঘরভাড়া ও দৈনন্দিন খরচ মেলাতে না পেরে তারা ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছেন। এছাড়া স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলে এলাকার সামাজিক পরিবেশ ও ব্যবসার সুনাম নষ্ট হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: সফিকুল ইসলাম বলেন:“যৌনপল্লীতে অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী থাকার কথা নয়। সাধারণত যারা অনুমোদন বা কার্ড নিয়ে থাকে, তারাই কেবল সেখানে থাকার যোগ্য। যদি কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী প্রবেশের খবর আমরা পাই, তবে দ্রুত উদ্ধার করে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা হবে। যারা এর পেছনে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের অভিযান ও তৎপরতা নিয়মিত অব্যাহত রয়েছে।
মানবাধিকারকর্মীরা মনে করছেন, এটি সরাসরি মানবপাচার এবং শিশু নির্যাতন। বন্দিদশা থেকে মুক্তি চেয়ে অনেক মেয়েই এখন আকুতি জানাচ্ছে। অবিলম্বে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই নাবালিকাদের উদ্ধার এবং জড়িত সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।