প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ১৫, ২০২৬, ১০:৫০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ৩, ২০২৬, ৭:৪০ পি.এম
ভেড়ামারায় শিক্ষকের অবহেলার শিকার শিক্ষার্থী

জাহিদ হাসান ঃ
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় রায়টা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আব্দুল সালাম এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ জানিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে উক্ত শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ, নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতি এবং দায়িত্বে অবহেলা করে আসছেন। এতে করে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়াও কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষক আব্দুল সালামের নেশা দ্রব্য ইয়াবা সেবনের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের সন্তানরা বিদ্যালয়ে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা পাচ্ছে না। অনেক সময় শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত না থাকায় শিক্ষার্থীরা অবহেলিত অবস্থায় সময় পার করে। এছাড়াও কিছু শিক্ষার্থীকে অযথা শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। পূর্বেও তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ সহ গণ স্বাক্ষর দিয়ে উপজেলায় জমা দিও, কোন লাভ হয়নি।
উক্ত বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক জানান, সালাম স্যার অধিক সময় স্কুলে অনুপস্থিত এবং ঠিকমত বাচ্চাদের ক্লাস নেই না। তিনি বলেন, শিক্ষা অফিস তার হাতে, কথা বললে বদলি করে দিবো।
বাহাদুরপুর ইউপির ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম জানান, ১৯৬৭ সালে নির্মাণ হয়েছে আমাদের স্কুলটি। ভেড়ামার উপজেলার পাঁচটি পুরাতন স্কুলের মধ্যে আমাদের একটি। যেখানে মানুষ গড়ার কারিগর মনে করি। কিন্তু এই স্কুলে সহকারি শিক্ষক আব্দুল সালাম এর জন্য শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমতি এলাকার ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা। তিনি নয়টার স্কুল এগারোটার দিকে আসেন এবং উপস্থিত খাতা স্বাক্ষর করে পুনরায় চলে যান। এ বিষয়ে কোনো প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করে।
সাবেক স্কুল ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি বজুল রহমান জানান, আমি কমিটিতে থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পেয়েছি। আমরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করি। যে কোমলমতি শিশুদের তোমার প্রতি একটা হক আছে। তাদের হক থেকে বঞ্চিত করিও না। নিজের রিজিকটা হালাল করে নেয়। সে সময় সে ভালো হয়ে যাবার প্রতিশ্রুতি দিলেও। এখন পর্যন্ত তার মধ্যে কোন নমুনা পাওয়া যায়নি।
রায়টা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) গোলাম নবী শাহীন জানান, আমি তার বিরুদ্ধে কোন বিবৃতি দিতে পারবো না।
এলাকাবাসী দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান। তারা বলেন, একজন শিক্ষকের এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না এবং এর ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.