প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৬:৪৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২২, ২০২৬, ১:৩৬ অপরাহ্ণ
অবিলম্বে হস্তক্ষেপ জরুরি: পদ্মার ভাঙনে গোয়ালন্দে বিলীন কৃষিজমি, আতঙ্কে শতাধিক পরিবার

ইলিয়াছ শাহেদ গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধিঃ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় পদ্মা নদীর অব্যাহত ভাঙনে একের পর এক কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ করে তীব্র আকার ধারণ করা এই ভাঙনে ইতোমধ্যে কয়েকশ’ বিঘা আবাদি জমি হারিয়ে গেছে, আর বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে শতাধিক পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া ইউনিয়নের মৃগী বাঘা এলাকা ও আশপাশের নদীতীরবর্তী অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে ভাঙন ভয়াবহ আকার নিয়েছে। ইতোমধ্যে নদীর পাড়ের প্রায় ৫০ ফুট এলাকা ভেঙে গেছে এবং ধানসহ বিভিন্ন ফসলি জমি বিলীন হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, “আমাদের একমাত্র জীবিকার উৎস এই জমি। ভাঙনের কারণে সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমাদের বসতভিটাও নদীতে চলে যাবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যদিও মাঝে মাঝে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিদর্শনে আসেন, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান এখনো দৃশ্যমান নয়। ফলে দিন দিন ঝুঁকি বাড়ছে এবং নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের কবলে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পদ্মা নদীর গতিপথ পরিবর্তন, তীব্র স্রোত এবং অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের কারণে এই ভাঙন আরও তীব্র হচ্ছে। দ্রুত জিওব্যাগ ফেলা, টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং নদী শাসন কার্যক্রম জোরদার না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকেও শিগগিরই একটি টিম পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।এলাকাবাসীর দাবি দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ব্যবস্থা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তা পদ্মার ভয়াল থাবায় প্রতিদিনই বদলে যাচ্ছে গোয়ালন্দের মানচিত্র। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অচিরেই আরও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.