
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার আলোক দিয়াড় গ্রামে হাসপাতালটির উদ্যোগে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত হন।
হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক সরওয়াত আহমেদ বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু চিকিৎসা দেওয়া নয়, বরং একটি সুস্থ ও সচেতন সমাজ গড়ে তোলা। খাদ্য, বস্ত্র ও আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে কাজ করে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে প্রতিষ্ঠানটি।
তিনি আরও বলেন, ২০০৭ সালে দাতব্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করা খোকন চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন ২০১৮ সালে হাসপাতাল চালুর মাধ্যমে সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে হাসপাতালটি রোগীদের জন্য ১০% থেকে ৫০% পর্যন্ত ভর্তুকি দিয়ে থাকে। ২৪ ঘণ্টা জরুরি বিভাগ, অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে চিকিৎসা সবকিছুই রয়েছে এক ছাদের নিচে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে এগিয়ে থাকা এই হাসপাতালটিতে রয়েছে ডিজিটাল এক্স-রে, ৪ডি আল্ট্রাসনোগ্রাফি, ইসিজি, ইকো, কালার ডপলারসহ উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা। নিয়মিতভাবে এখানে নরমাল ডেলিভারি, সিজারিয়ান, ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি, নিউরো ও অর্থোপেডিক অপারেশনসহ কিডনি ও ইউরোলজি চিকিৎসা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি আধুনিক ডায়ালাইসিস সেবাও চালু রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুন অর রশিদ খান হাসান, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ইন্নাসহ স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে সাংবাদিকরা হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার খোকন মেমোরিয়াল হাসপাতাল শুধুমাত্র একটি চিকিৎসাকেন্দ্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য এক নির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। জরুরি মুহূর্তে সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা, মানবিক আচরণ এবং তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসা পাওয়ার কারণে এই হাসপাতালের প্রতি সকলে আস্থা দিন দিন আরও দৃঢ় হয়েছে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে যেখানে উন্নত চিকিৎসার জন্য দূর-দূরান্তে ছুটতে হতো, এখন নিজ এলাকাতেই প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সময়, অর্থ ও ভোগান্তি অনেকটা কমে এসেছে। শুধু চিকিৎসা নয়, রোগীদের প্রতি আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধের কারণে খোকন মেমোরিয়াল হাসপাতাল এখন এই অঞ্চলের মানুষের কাছে এক অনন্য ভরসার নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।