হোম » সারাদেশ » কাউখালীতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু, প্রথম দিনে বহিষ্কার ১

কাউখালীতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু, প্রথম দিনে বহিষ্কার ১

কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
সারা দেশের মতো পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) একযোগে শুরু হয়েছে। সকাল ১০টায় শুরু হয়ে দুপুর ১টায় শেষ হওয়া প্রথম দিনের পরীক্ষা কঠোর নজরদারির মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।
তবে পরীক্ষার শেষ মুহূর্তে একটি কেন্দ্রে অসৎ উপায় অবলম্বনের অভিযোগে একজন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এম. মতিউর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ, জয়কুল কেন্দ্রে ওই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র লেমন হাওলাদারকে দায়িত্বরত পরিদর্শক শিক্ষক রিপন সিকদার বহিষ্কার করেন।
এদিকে, অন্যান্য কেন্দ্রগুলোতে শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ বছর বরিশাল শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৯৭৯ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করে। এর মধ্যে ৫০৭ জন ছাত্র ও ৪৭২ জন ছাত্রী।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কাউখালী কেন্দ্রীয় আলিম মাদ্রাসা কেন্দ্রে (ভেন্যু: সরকারি বালক বিদ্যালয়) কোরআন ও তাজবীদ বিষয়ে ২৯২ জনের মধ্যে ১৩ জন অনুপস্থিত ছিল। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে জয়কুল কেন্দ্রে ১৬০ জনের মধ্যে ৪ জন অনুপস্থিত থাকায় ১৫৬ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
অন্যদিকে, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সরকারি কেজি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩১৭ জনের মধ্যে ৩১৫ জন এবং এস বি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২১০ জনের মধ্যে ২০৮ জন পরীক্ষার্থী বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নেয়।
পরীক্ষা শুরুর আগেই শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিতে থাকে। অভিভাবকদের উপস্থিতিতে কেন্দ্র এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষা সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং কেন্দ্রের আশপাশে অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নজরদারি ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী কয়েক সপ্তাহ লিখিত পরীক্ষা চলবে, পরে ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। প্রতিটি কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকায় কেন্দ্রগুলো সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিগত এক দশকের মধ্যে এবারই সবচেয়ে সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা পরীক্ষার্থীদের সাফল্য কামনা করে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!