রায়হানুল ইসলাম, বগুড়া
ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় মহাসড়কে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার ২৫ বছর বয়সী যুবক নাঈমুর রহমান করিম। গত ১০ এপ্রিল (শুক্রবার) ভোরে ঠাকুরগাঁওয়ের সিংপাড়া এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মালবাহী পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নাঈমুর রহমান করিম গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাটা ইউনিয়নের মোকসেদ আলী প্রামানিকের (গোফার) ছেলে। তিনি বগুড়া জেলা হেযবুত তওহীদের সভাপতি সালজার রহমান সাবুর চাচাতো ভাই এবং নিজেও সংগঠনটির একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন।
পেশায় ‘সুইস গ্লোবাল’ (SWISH Global) কোম্পানির কর্মী করিম গত ৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে মালামাল নিয়ে পিকআপযোগে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ১০ এপ্রিল ভোরে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় মহাসড়কের সিংপাড়ায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকা মেট্রো ব-১৫-১৮৫৮ নম্বরের একটি বিআরটিসি বাসের সঙ্গে তাদের যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের তীব্রতায় করিমের বাম হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়। স্থানীয় জনতা, ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, করিমের ঘরে মাত্র আট মাস বয়সী এক দুগ্ধপোষ্য সন্তান রয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব শেষে সেই অবুঝ সন্তানকে কোলে নেওয়ার তীব্র আকুতি নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু ঘাতক বাস সেই স্বপ্ন আর পূরণ হতে দেয়নি। করিমের মৃত্যুতে তার পরিবারে এখন চলছে আজন্ম হাহাকার।
নাঈমুর রহমান করিমের অকাল মৃত্যুর সংবাদ গাবতলীর দুর্গাহাটায় পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এলাকাবাসীর মতে, করিম অত্যন্ত বিনয়ী ও পরিশ্রমী যুবক ছিলেন। তাকে শেষবার দেখতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমান।
১০ এপ্রিল রাত দশটায় দুর্গাহাটা জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা ও দোয়া পরিচালনা করেন হেযবুত তওহীদের সদস্য মুফতি হাবিবুল্লাহ মেজবাহ। মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষ।