প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ৭:২৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ৭, ২০২৬, ৩:১২ অপরাহ্ণ
ভৈরবে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ১১ শিশু উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবকদের মাঝে, চালু করা হয়েছে আইসোলেশন ইউনিট

এম আর ওয়াসিম, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে শিশুদের মধ্যে হামের উপসর্গ ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে জ্বর, সর্দি-কাশি, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ও পাতলা পায়খানার উপসর্গ নিয়ে একাধিক শিশু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত ১১ শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা উন্নতির দিকে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এর আগে একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ৫ শিশু চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১৬ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
বর্তমানে সারা দেশেই হামের প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৭৪টি সন্দেহভাজন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কিশোর কুমার ধর বলেন, “সারাদেশের মতো ভৈরবেও হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা দিতে আমরা হাসপাতালের ভেতরে একটি পৃথক আইসোলেশন ইউনিট চালু করেছি। বর্তমানে ১১ জন শিশু ভর্তি আছে। তাদের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, হামের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, শরীরে লালচে দানা, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে রোগীকে অন্যদের থেকে আলাদা রেখে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দেশব্যাপী পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সরকার, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে, যা ইতোমধ্যে ৩০টি উপজেলায় চালু হয়েছে।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, উদ্বিগ্ন বাবা-মায়েরা অসুস্থ সন্তানদের বুকে আগলে বসে আছেন। কারও কপালে জ্বরের উত্তাপ, কারও শরীরে লালচে ফুসকুড়ির ছাপ—প্রতিটি শয্যা যেন একেকটি পরিবারের উৎকণ্ঠা আর প্রার্থনার প্রতিচ্ছবি।
এক অভিভাবক বলেন, “দুই দিন ধরে জ্বর আর কাশি ছিল। পরে শরীরে দানা উঠলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখন কিছুটা ভালো আছে, তবে ভয় কাটছে না।”
প্রতিদিন ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া ও অন্যান্য রোগ নিয়ে প্রায় ১৫০ থেকে ৩০০ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন, যার বড় অংশই শিশু বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রেখে চিকিৎসা নিশ্চিত করাই হামের বিস্তার রোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.