
সাইফুল ইসলাম
ফেরী ঘাটের পল্টন আটোস্ট্যান্ডে পরিনত হয়েছে প্রথমে দেখে মনে হবে এ যেন অটোস্ট্যান্ড।দৌলতদিয়া পল্টন এলাকায় ফেরিঘাটে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি। ফেরি থেকে যানবাহন নামার সময় অনিয়ন্ত্রিতভাবে দাঁড়িয়ে থাকা অটোরিকশার কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা, তৈরি হচ্ছে তীব্র বিশৃঙ্খলা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফেরি ভিড়তেই ঘাটের মুখে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকে অসংখ্য অটোরিকশা। ফলে বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি নামার সময় সংকীর্ণ হয়ে পড়ে পথ, বাধাগ্রস্ত হয় স্বাভাবিক চলাচল। অনেক সময় চালকদের হঠাৎ ব্রেক করতে হচ্ছে, এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
যাত্রী ও চালকদের অভিযোগ, কোনো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় অটোরিকশাগুলো যত্রতত্র অবস্থান নেয়। এতে ফেরি থেকে নামা যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের সম্ভাবনা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
স্থানীয়দের মতে, কিছুদিন আগে দৌলতদিয়া ফেরী ঘাটে বাস পানিতে তলিয়ে জাবার মতো এতো বড় দূর্ঘটনা ঘটার পরেও এখন ও উদাসীন ঘাট কর্তৃপক্ষ। অটোরিকশার পরিস্থিতি দীর্ঘদিনের হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ট্রাক চালক রফিকুল এর সাথে কথা বলে জানান যে, দৌলতদিয়া ফেরী ঘাটে রাস্তা অবস্থা খুবই খারাপ তার পরে অটোরিকশা যে ভাবে পল্টন এর উপরে রাখা হয় এতে তারা অনেক ঝুঁকিতে থাকে। সে আরো জানায় যদি কোনো অটোরিকশার সাইড দিয়ে বলা হয় বা কিছু বল্লে প্রশাসনের লোকের সামনেই অটোরিকশা চালাকরা স্থানীয় প্রভাব দেখিয়ে চালক দের মারধর করে হয়রানি করে। প্রশাসন দেখেও, না দেখার ভান করে চুপ করে থাকে। ফেরীর লোকাল এক যাত্রী জানান যে অটোরিকশা গুলো যাত্রী দের নানান ভাবে হয়রানি করে থাকে, জোর করে অটোরিকশায় যেতে বলেন, কোনো যাত্রী না যেতে চাইলে। তাহলে অটোরিকশার চালকরা যাত্রীদের উদ্দেশ্য করে নানান ধরনের অশ্লীল ভাষা ব্যাবহার করে, এ যেন ফেরী ঘাট নয় আটোরিকশার স্বর্গ রাজ্য। ঘাটে দ্বায়িত্ব পালন করা কর্তব্যরত কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে চাইলে। কেও ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হন নি। তবে ফেরীর এক কর্মচারী নিজের পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান যে, ভাই আমরা এই অটোরিকশা চালক দের কাছে অসহায় আমরা অন্য জায়গায় থেকে এসে চাকরি করি। ওরা স্থানীয় কিছু বল্লে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অটোরিকশা চালকরা আমাদের ভিন্ন সময়ে হয়রানি করে মারধর করে। তাই আমরা চুপ থাকি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান—দৌলতদিয়া পল্টনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এমন ঝুঁকিপূর্ণ অব্যবস্থাপনা দূর করে যাত্রী ও চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।