
মোঃ এখলাস শেখ,মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ একসময় গ্রামীণ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত কামার সম্প্রদায় এখন চরম সংকটের মুখে দিন পার করছেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও যান্ত্রিকতার প্রসারে তাদের ঐতিহ্যবাহী পেশা আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। বছরের অধিকাংশ সময়ই কাজের অভাবে বসে থাকতে হচ্ছে এই পেশার সঙ্গে জড়িত মানুষদের।
জানা গেছে, মোরেলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনও কিছু সংখ্যক কামার পরিবার বসবাস করছেন। তারা মূলত লোহা দিয়ে দা, ছুরি, কোদাল, কাস্তে, বটি ও কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু বর্তমানে বাজারে সহজলভ্য কারখানায় তৈরি পণ্যের কারণে তাদের তৈরি সামগ্রীর চাহিদা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। স্থানীয় কামাররা জানান, বছরের মধ্যে শুধুমাত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে কিছুটা কাজের চাপ বাড়ে। কোরবানির জন্য ছুরি, চাপাতি ও দা তৈরির অর্ডার আসে তখন। কিন্তু ঈদের পর আবার দীর্ঘ সময় কাজ থাকে না। ফলে তাদের আয় একেবারেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
একজন কামার জানান, “আগে সারা বছর কাজ থাকতো। এখন ঈদের সময় ছাড়া বসে থাকতে হয়। সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়ে গেছে।” অনেকেই বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করে দিনমজুরি বা অন্য কাজের দিকে ঝুঁকছেন। এদিকে, তরুণ প্রজন্মও এই পেশার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। তারা মনে করছে, এই পেশায় ভবিষ্যৎ নেই। ফলে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী কামারশিল্প।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি সহায়তা ও আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব। ক্ষুদ্র ঋণ, যন্ত্রপাতি সহায়তা ও বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন হলে কামাররা আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। না হলে অদূর ভবিষ্যতে এই ঐতিহ্যবাহী পেশাটি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন
সিরাজগঞ্জে আ’লীগের ৪ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
চাঁপাইনবাবগঞ্জে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষক মিজান গ্রে’ফ’তা’র
কাউখালীতে বাবা-মায়ের সঙ্গে অভিমানে স্কুলছাত্রের আত্মহত্যা