প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ১১:১৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ৬, ২০২৬, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ
ধুনটে হামের সংক্রমণ রোধে আগাম প্রস্তুতি: খোলা হলো বিশেষ আইসোলেশন ইউনিট
![]()
এম,এ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় হামের সম্ভাব্য সংক্রমণ প্রতিরোধ ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি পৃথক ‘আইসোলেশন সেন্টার’ চালু করা হয়েছে। হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডের একটি অংশকে এই ইউনিটের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেখানে হামের রোগীর জন্য বিশেষ চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ধুনট উপজেলায় বর্তমানে নিশ্চিতভাবে কোনো হামের রোগী নেই। তবে গত ২ এপ্রিল জুয়েল রানা নামে এক ব্যক্তি উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হলে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আইসোলেশন সেন্টারে রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে হামের লক্ষণ না পাওয়ায় এবং অন্যান্য জটিলতা থাকায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রেফার করা হয়।
ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজ্জাদ কাদির বলেন, “বর্তমানে ধুনটে নিশ্চিত কোনো হামের রোগী পাওয়া যায়নি। তবে আমরা আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আইসোলেশন সেন্টার প্রস্তুত রেখেছি। জ্বর, সর্দি বা শরীরে ফুসকুড়ি নিয়ে আসা রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।”
অন্যদিকে, হামের ভয়াবহতা ও সচেতনতা নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মির্জা শরিফুল ইসলাম বলেন, “হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। শিশুদের চোখ লাল হওয়া, জ্বর বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে আনতে হবে। সঠিক সময়ে টিকা নিশ্চিত করাই এই রোগ থেকে বাঁচার প্রধান উপায়।”
ইপিআই (EPI)-এর তথ্যমতে, দেশে টিকাদানের হার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কমে যাওয়ায় হামের সংক্রমণ ঝুঁকি পুনরায় বেড়েছে। ২০২৫ সালে টিকাদানের হার ৫৭.১ শতাংশে নেমে আসায় শিশুমৃত্যুর ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মাঠ পর্যায়ে জনবল সংকট ও অপুষ্টির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সরকার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করেছে। ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই উদ্যোগকে স্থানীয় সচেতন মহল সাধুবাদ জানিয়েছে।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.