প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ১১:২২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ৩, ২০২৬, ৪:১৬ অপরাহ্ণ
বাসাইলে কৃষি কাজে এসে দম্পতিকে হত্যা: কুড়িগ্রাম থেকে ২ আসামি গ্রেপ্তার

বাসাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের গোষাখালি গ্রামের বৃদ্ধদম্পতি মোতাহার সিকদার (৮২) ও রিজিয়া বেগম (৭২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দীর্ঘ দুই মাস চেষ্টার পর কুড়িগ্রামের চিলমারী থেকে এই ঘটনায় জড়িত দুই মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী থানার পাত্রখাতা চৌকিদার পাড়া গ্রামের আবদুল শেখের ছেলে সবুজ মিয়া (৩৬) এবং একই এলাকার আযহার মন্ডলের ছেলে জহিরুল ইসলাম (৩৯)।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ভোরে তাদের নিজ এলাকা কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে বাসাইল থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ২৪ জানুয়ারি করটিয়া হাটে কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে আসেন অভিযুক্তরা। সেখান থেকে ৬০০ টাকা দৈনিক মজুরিতে ধান রোপণের জন্য তাদের বাড়িতে নিয়ে আসেন মোতাহার সিকদার। বাড়িতে থাকার জায়গা ও কাজের সুযোগ দিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি ওই বৃদ্ধদম্পতির।
গত ২৬ জানুয়ারি দিবাগত রাতে আসামিরা মোতাহার সিকদারকে কৌশলে নেশা জাতীয় পাউডার খাইয়ে অচেতন করে দেয়। গভীর রাতে ঘরের টিন কেটে ভেতরে প্রবেশ করলে রিজিয়া বেগম জেগে যান এবং চিৎকার করার চেষ্টা করেন। এসময় আসামিরা দুজনেই ওই দম্পতিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর নিহতের কান থেকে ১ রতি ওজনের স্বর্ণের দুল, ব্যবহৃত একটি পুরনো লুঙ্গি এবং একটি বাটন মোবাইল ফোন লুট করে।
বাসাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে আসামিদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত মোবাইল ও লুঙ্গি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, আমরা প্রথম থেকেই ছায়া তদন্ত চালিয়ে আসছিলাম। দীর্ঘ দুই মাস নিরলস প্রচেষ্টার পর তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। আসামিরা আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জানুয়ারি দিবাগত রাতে হাবলা ইউনিয়নের গোষাখালি এলাকায় এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। পরদিন সকালে পুত্রবধূ তাদের ডাকতে গিয়ে টিন কাটা ও মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছিল।
Copyright © 2026 GonoManusherAwaj.com-দৈনিক গণমানুষের আওয়াজ. All rights reserved.