প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ৬:২৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২, ২০২৬, ৩:১২ অপরাহ্ণ

এম,এ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধি:
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি। একসময় যেখানে নাটক, সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্যচর্চার প্রাণকেন্দ্র ছিল, সেই স্থানটি এখন পরিণত হয়েছে উপজেলা অফিসের স্টোররুমে। নিজস্ব ভবন না থাকায় কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক খান পুরাতন হলরুমটি বরাদ্দ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটিও বর্তমানে স্টোররুম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
প্রশাসনিক অবহেলা, জবাবদিহিতার অভাব এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গন আজ চরম সংকটে। দীর্ঘদিনের স্থবিরতায় শেরপুরের সাংস্কৃতিক পরিবেশ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। অথচ এখানে শতাধিক শিল্পী, সংগীতশিল্পী, নাট্যকর্মী ও আবৃত্তিকার রয়েছেন, যাদের চর্চার কোনো সুযোগ নেই।
ভবের হাটের লালন চর্চা ও গবেষণা কেন্দ্রের সভাপতি মোজাফফর আলী আক্ষেপ করে বলেন,
“আমাদের শিশুরা সাংস্কৃতিক চর্চা থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে। গত ১২ বছর এখানে কোনো কার্যক্রম নেই। একাডেমি শুধু নামেই আছে, বাস্তবে মৃত।”
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শিল্পকলা একাডেমির কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে একাধিক প্রার্থী থাকায় পরবর্তীতে আর কমিটি গঠন করা হয়নি। পরে সাবেক ইউএনও আশিক খান উপজেলা অফিসের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি কমিটি ঘোষণা করলেও সেই কমিটির কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়নি।
নৃতাঞ্জলী আর্টস একাডেমির পরিচালক কে এম কামরুল হাসান পাশা জানান,
“শুরুতে এক-দুই বছর কার্যক্রম চললেও এরপর আর কোনো কার্যক্রম হয়নি। পাশের ধুনট উপজেলায় কার্যক্রম থাকলেও আমাদের এখানে নেই। এতে স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।”
স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীদের অভিযোগ, প্রতিবছর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে বাজেট এলেও সেই অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার হয় না। তৎকালীন ইউএনও আশিক খানের মাধ্যমে তথাকথিত ‘পকেট কমিটি’ গঠনের পর থেকেই উন্নয়ন তহবিল সংস্কৃতি চর্চায় কাজে লাগেনি। প্রকৃত সংস্কৃতিকর্মীদের বাদ দিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দিয়ে কমিটি গঠন করায় কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
এদিকে, একাডেমির জন্য চারটি হারমোনিয়াম, তিন সেট ডুগি-তবলা, একটি কীবোর্ড ও একটি গিটারসহ পর্যাপ্ত সরঞ্জাম থাকলেও সেগুলো ব্যবহার হয়নি দীর্ঘদিন।
উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা বলেন,
“বিগত সময়ে কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে এখন নতুন করে শিল্পকলার কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও একাডেমির সভাপতি মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন,
“আমি সদ্য এই উপজেলায় যোগদান করেছি। বিষয়টি নিয়ে এখনও বিস্তারিত জানা হয়নি। তবে একতরফাভাবে কমিটি করা হবে না। সকল সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের নিয়ে নতুনভাবে কার্যক্রম শুরু করা হবে।”
তিনি আরও জানান, একাডেমিকে নতুনভাবে সাজিয়ে আগামী পহেলা বৈশাখ থেকেই কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে শেরপুর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি আবারও প্রাণ ফিরে পাবে এবং নতুন প্রজন্ম সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ পাবে।