
ইলিয়াছ শাহেদ গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাসডুবির মর্মান্তিক ঘটনার পঞ্চম দিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের গঠিত ছয় সদস্যের তদন্ত দল। রোববার (সকাল সাড়ে ১০টা) তারা সরেজমিনে দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন।
তদন্ত দলের প্রধান, নৌ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
সকালে পাটুরিয়া ঘাট থেকে স্পিডবোটে করে দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছে তদন্ত দলটি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তারা ফেরিঘাটে বাসটির অবস্থান, নদীতে নিমজ্জিত হওয়ার স্থান, পন্টুনের স্থায়িত্ব, অ্যাপ্রোচ সড়ক এবং জিরো পয়েন্টের যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন তদন্ত দলের সদস্যরা।
পরিদর্শনের অংশ হিসেবে টার্মিনালে রাখা দুর্ঘটনাকবলিত সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটিও পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ সময় বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বুধবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। এতে মুহূর্তেই এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন, নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পরে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল যোগ দিলে উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার হয়।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে নিরাপদ নৌযান চলাচল নিশ্চিত করতে তদন্ত প্রতিবেদনকে ঘিরে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এখন ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।