হোম » সারাদেশ » তজুমদ্দিনে সূর্যমুখীর হলুদ বিপ্লব, বাড়ছে কৃষকের স্বপ্ন

তজুমদ্দিনে সূর্যমুখীর হলুদ বিপ্লব, বাড়ছে কৃষকের স্বপ্ন

মেহেদী হাসান মামুন। তজুমদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি
ভোজ্যতেলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে সূর্যমুখী চাষ। ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এই তেলজাতীয় ফসলের আবাদ এখন কৃষকদের মাঝে তৈরি করেছে ব্যাপক আগ্রহ ও সম্ভাবনার নতুন দুয়ার।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ পাতার ফাঁকে হলুদ সূর্যমুখীর দৃষ্টিনন্দন সমারোহ যেন প্রকৃতির এক অনন্য রূপ। প্রতিটি ফুল সূর্যের আলোয় ঝলমল করে কৃষকের স্বপ্নের প্রতীক হয়ে উঠেছে। আর মাত্র কিছুদিনের মধ্যেই ঘরে উঠবে এই সোনালি ফসল।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচি এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে তজুমদ্দিনে সূর্যমুখী চাষের বিস্তার ঘটছে।

চলতি মৌসুমে পার্টনার প্রকল্পের আওতায় ৩টি এবং তেল প্রকল্পের মাধ্যমে ১৫টি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৮৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ৮২ হেক্টর ছাড়িয়ে গেছে।এ অঞ্চলে প্রধানত ‘প্রজাপতি’ জাতের সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে ভালো ফলনের আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আড়ালিয়া গ্রামের কৃষক মেঘনাথ দাস জানান, “গত তিন বছর ধরে সূর্যমুখীর চাষ করছি। কম খরচে ভালো ফলন হওয়ায় নিজের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি ফসল বিক্রি করতে পারছি। এবছর প্রায় ৩০ শতাংশ জমিতে চাষ করেছি, খরচ হয়েছে প্রায় ৮ হাজার টাকা। আশা করছি ৮ থেকে ৯ মণ ফলন পাবো।”

তার সফলতা দেখে একই গ্রামের ভাষ্কর চন্দ্র মজুমদার, জাকির হোসেন ও শ্যামল চন্দ্র দাসসহ অনেক কৃষক সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তারা জানান, “সরিষার তুলনায় সূর্যমুখী চাষে খরচ কম এবং লাভ বেশি। তাই আমরা এখন সূর্যমুখীর দিকেই ঝুঁকছি।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইব্রাহিম বলেন, “সূর্যমুখী একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল ফসল, যা দেশের ভোজ্যতেলের ঘাটতি পূরণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করতে হয়। সূর্যমুখী চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং কৃষকরাও আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।”
সব মিলিয়ে, তজুমদ্দিনে সূর্যমুখী চাষ শুধু কৃষকের আয় বাড়ানোর সম্ভাবনাই নয়, বরং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!